বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন




মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, ঠাঁই পেতে পারেন শরিকরা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ ১:১৫ pm
Public Administration মন্ত্রিপরিষদ Bangladesh Government gov govt বাংলাদেশ সরকার ঢাকা Dhaka সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারি প্রশাসন সচিবালয় ‎মন্ত্রণালয় প্রশাসন
file pic

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং বড় ধরনের রদবদলের জোর আলোচনা চলছে সরকারের ভেতরে। বর্তমান ৫০ সদস্যের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরো সাত-আটজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। তবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার আকার ৬০ জনের বেশি হবে।

সূত্র জানায়, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজে দুর্বলতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এসেছে। এজন্য প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এ ধাপের রদবদলে মন্ত্রীর পাশাপাশি উপমন্ত্রীও থাকতে পারেন। এদের মধ্যে দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য, দুয়েকজন নারী সংসদ সদস্য এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের দুয়েকজন থাকতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া দুজন নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয় আনতে খুব শিগগির মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ কেউ বলতে পারছেন না। জনগণের সেবার মান বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষাও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম কারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষপর্যায়ের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার আকার বড় হতে পারে। দপ্তরও রদবদল হতে পারে। খুব শিগগির এ ঘোষণা আসতে পারে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেনÑএটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজনের ফাইল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার কয়েকজনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যুক্ত করে সরকারের কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীও করা হতে পারে।

মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আট প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোকে মন্ত্রিসভার বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীন একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরো গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এ ঘোষণা আসতে পারে, যা সরকারের আগামী দিনের পথচলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী বাদে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। ৪৯ সদস্যর এ মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় প্রথম দফায় খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে প্রয়োজন অনুসারে ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে।

মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত বা রদবদল হওয়া বিচিত্র ব্যাপার নয়, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তার মানে এটা এখন হবে বা তখন হবে, এমন নয়। এটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী জানেন। প্রধানমন্ত্রী যখন মনে করবেন কাউকে দায়িত্ব দেবেন আবার কাউকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেবেন, এটা তার এখতিয়ার।

আলোচনায় যেসব মন্ত্রণালয়

একাধিক মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি সেক্টরে আরো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য এ সম্প্রসারণ সে লক্ষ্যপূরণের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, ২০০১ সালের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যার সমান হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ে এখনো কোনো মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। যদিও সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত এমন সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় বেছে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিভাগ ও জেলাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বতমান মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বড় দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এসব মন্ত্রণালয়ে অতীতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেখা গেছে। যেমন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য সবশেষ আটজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বিন্যাস করে কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করা হয়। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অন্য প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো হতে পারে।

আলোচনায় এগিয়ে যারা

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বেগম সেলিমা রহমান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় চারজনই ছিলেন। এবার তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তবে সংসদ উপনেতা পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এগিয়ে আছেন।

অনেকের মতে, সবার কাছে দলের প্রবীণ নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাদের মন্ত্রিসভায় নিলে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা ভালো করবেন। তরুণ-প্রবীণের সংমিশ্রণে সরকারের কাজে গতি বাড়বে।

সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আলোচনায় আছেনÑনোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।

মূল্যায়ন করা হতে পারে শরিকদেরও

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সে সময় শরিকদের বলা হয়েছিল, নির্বাচনে জয়লাভ করে আসতে পারলে বা পরাজিত হলেও সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ও গণতন্ত্র মঞ্চের জোনায়েদ সাকিকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। কিন্তু ১২ দলীয় জোটের লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তাদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এমনকি নির্বাচনে পরাজিত হলেও কাউকে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনা করা হয়নি। নির্বাচনে পরাজিতদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদের নাম আলোচনায় আছে।

এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামে ২০১৪ সালে মৎস্য ভবনের সামনে পুলিশ হত্যার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সেলিম। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামেও বিএনপির পরীক্ষিত মিত্র তিনি। বিএনপির হাইকমান্ডের সুনজরে আছেন। অপরদিকে, আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম শুরু থেকে আলোচনায় থাকলেও পরে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। তবে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে অন্যদের তুলনায় সংসদে বেশ সক্রিয়।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী

দুয়েকজনকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনায় সবার চেয়ে এগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি মন্ত্রিসভায় গেলে তার জায়গায় অন্য কাউকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ, বিগত ১১ বছর ধরে তিনিই দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। খালেদা জিয়া মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত একটানা দুই বছর তিন মাস তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আহমেদ পাভেল। আমার দেশ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD