বিশ্বকাপ শুরু করেছিলেন হ্যাটট্রিক দিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে করলেন জোড়া গোল। ভাঙলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। অথচ ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিওনেল মেসি জানিয়েছেনÑতিনি ক্লান্ত হলেও ভক্ত-সমর্থকদের আরো আনন্দের উপলক্ষ হতে চান। ডালাসে সোমবার ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩-০ জয়ে তিনটি গোলই করেছিলেন মেসি। সেই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি ছুঁয়েছিলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের বিশ্বকাপ রেকর্ড। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করলেও ৩৮তম মিনিটে পেছনে ফেলেন ক্লোসাকে এবং যোগ করা সময়ে আরো একটি গোল করে নিজের রেকর্ডকে নিয়ে যান ১৮তে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে মেসির পা থেকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা এখন ১২২, ম্যাচ ২০১টি। এ তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যার গোল ১৪৩টি।
ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে জয় ও রেকর্ড নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মেসি, ‘এ জয়ে আমি খুব খুশি। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়, কঠিন একটি ম্যাচ হলো এবং এ ম্যাচের জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রমও করেছিলাম। সামনের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগে এটা আমাদের মনকে শান্ত করছে।’
সমর্থকদের জন্য আরো বড় আনন্দের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সে সঙ্গে আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত হওয়া নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি, ‘আমরা এরই মধ্যে মানুষকে অনেক আনন্দ উপহার দিয়েছি। তবে আমরা তাদের আরো আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করব। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, আমরা পরের পর্বে কোয়ালিফাই করেছি। সবকটি ম্যাচ জেতা আমাদের পরিকল্পনায় ছিল। পুরো দলটিই অনেক আনন্দ নিয়ে থাকে। আমরা যখন একসঙ্গে হই, তখন উপভোগ করি, অনুশীলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করি।’
পেনাল্টি মিস এবং এর পরের পরিস্থিতি নিয়ে মেসির ভাষ্য, ‘পেনাল্টিটা মিস করার পর কিছুক্ষণ আমি ভীষণ বিরক্ত ছিলাম; কিন্তু পরে সেটা পুষিয়ে নিতে পেরেছি। সত্যি বলতে শেষ পর্যন্ত সবকিছু যেভাবে হলো, তা চমৎকার। একটি পেনাল্টি পেয়েছিলাম, ব্যবধান আরো বড় হতে পারত। তবে ম্যাচের ফল ও দল যে পরিশ্রম করেছে, তাতে আমি খুশি।’
আজ ৩৯তম জন্মদিন উদযাপন করবেন মেসি। তার আগে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার আসনে বসা, টানা দুই জয়ে দলকে শেষ ৩২-এ তোলা এবং দলের পাঁচ গোলের সবকটিই নিজের নামে লেখাÑএরচেয়ে উপভোগ্য সময় হয়তো তার ক্যারিয়ারেও খুব বেশি আসেনি।