রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন




হজের নিবন্ধনের সময় ফের এগিয়ে আনলো সৌদি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ১২:৩২ pm
হজযাত্রী Hajj Muslims perform Umrah Grand Mosque Saudi holy city Mecca Saudi Arabia KSA Islamic pilgrimage Mecca Saudi Arabia holiest city Muslims mandatory religious duty ইসলাম ওমরাহ Saudi kaba mecca mokka hajj সৌদি Kaba hajj islam makka macca baitulla হজ কাবা মক্কা বাইতুল্লাহ ইসলাম Outlookbangla.com আউটলুকবাংলা ডটকম macca makka kaba ওমরাহ hajj
file pic

আগামী বছরের হজের নিবন্ধনের সময় আরও এগিয়ে এনেছে সৌদি আরব। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজের জন্য বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিবন্ধন শেষ করতে হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। চলতি বছরের তুলনায় যা শেষ হবে ১৬ দিন আগে। একই সঙ্গে আবাসন, তাঁবু বুকিং, সেবা প্যাকেজ চূড়ান্ত করা ও অর্থ স্থানান্তরসহ অধিকাংশ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে হজের কয়েক মাস আগেই।

এ অবস্থায় নতুন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, নিবন্ধনের লক্ষ্য পূরণ হবে কি না এবং হজের খরচ কমানোর সরকারি প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হবে— তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো সিদ্ধান্ত ও আগাম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে না পারলে আগামী হজ মৌসুমে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হিজরি ১৪৪৮/২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের হজ উপলক্ষে বিস্তারিত সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। গত ৭ জুন জারি করা রোডম্যাপে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দেশের সব সরকারি-বেসরকারি অংশীজনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। যদিও চলতি বছর হজযাত্রী নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ১২ অক্টোবর।

নিবন্ধনই বড় চ্যালেঞ্জ
সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী হজ মৌসুমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধন নিশ্চিত করা।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সৌদি আরবের নতুন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই আগেভাগে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরব এখন পুরো হজ ব্যবস্থাপনা অনলাইন ও কম্পিউটারাইজড সিস্টেমের আওতায় নিয়ে এসেছে। তারা আগে থেকেই সবকিছু গুছিয়ে নিতে চায়। সময়মতো প্রস্তুতি না হলে তাদের যেমন সমস্যা হয়, আমাদেরও হয়। তাই আগেভাগে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সবার জন্যই সুবিধাজনক।

আয়াতুল ইসলাম আরও বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত ও বেশি সংখ্যক নিবন্ধন নিশ্চিত করা। নিবন্ধনই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আগামী কয়েক মাসে যত বেশি নিবন্ধন নিশ্চিত করা যাবে, তত সহজ হবে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

হজযাত্রীদের মধ্যে আগাম নিবন্ধনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে জানিয়ে আয়াতুল ইসলাম বলেন, মানুষকে আরও বেশি করে সচেতন করতে হবে। বাড়াতে হবে প্রচার-প্রচারণা। গণমাধ্যম এবং হজ এজেন্সিগুলো একসঙ্গে কাজ করলে মানুষ আগেভাগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজারের বেশি হজযাত্রী হজ পালন করেন। তবে সময়সূচি এগিয়ে আনা এবং নানান কারণে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৭৮ হাজার ৫০০ জনে। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম বলেন, আগামী বছর হজযাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে। এটি পুরোপুরি নিবন্ধনের ওপর নির্ভর করবে। কাউকে জোর করে হজে পাঠানো যায় না। যারা নিবন্ধন করবেন, তারাই যেতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, গত বছরও যদি আরও কয়েক হাজার মানুষ নিবন্ধন করতেন, তাদের পাঠানোর সুযোগ ছিল।

কোটা নিয়ে কী ভাবছে সরকার?
হজ কোটা নিয়ে নানান আলোচনা থাকলেও এ মুহূর্তে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আয়াতুল ইসলাম বলেন, ২০২৭ সালের হজের জন্য কোটা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নতুন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আপাতত আগের ব্যবস্থাই বহাল রয়েছে। কোটা কমানো বা বাড়ানো নিয়ে এ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

এ বিষয়ে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রীর কোটা পেয়ে থাকে। তবে চূড়ান্ত দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তির সময়ই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক নির্ধারিত হবে।

সৌদির নতুন নীতিমালায় বদলাতে হবে ব্যবস্থাপনা
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার মনে করেন, সৌদি আরবের নতুন নীতিমালার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অভ্যস্ত। অনেকেই মনে করেন পরে করলেও হজে যাওয়া যাবে। তবে নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ থাকবে না। তাই সময়মতো নিবন্ধন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

হাব মহাসচিব বলেন, সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত করতে চায়। এজন্য প্যাকেজের সংখ্যা কমানো, বড় হোটেল ভাড়া নেওয়া এবং বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাপনা থেকে সরে আসার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান হজ ব্যবস্থাপনার কাঠামোর মধ্যে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন কঠিন। ফলে হজ ব্যবস্থাপনায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, হজ শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই পরবর্তী হজের প্রস্তুতি শুরু করে সৌদি আরব। তাই বাংলাদেশকেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে দেরি হলে সময়মতো প্রস্তুতি সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা এখনো সৌদি আরব থেকে না ফেরায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, সৌদি আরব এখন চায় হজের অধিকাংশ কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়ে যাক। জুলাইয়ের মধ্যেই তাঁবু বুকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু তখনো যদি হজযাত্রীর সংখ্যা চূড়ান্ত না হয়, তাহলে কতজনের জন্য তাঁবু নেওয়া হবে, অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং কীভাবে পরিকল্পনা করা হবে— তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

তার মতে, বাংলাদেশের মানুষ এখনো শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি। নতুন ব্যবস্থায় এ সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, গ্রামগঞ্জে এখনো অনেকেই মনে করেন শেষ সময়ে নিবন্ধন করলেও হজে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় এ ধারণা আর কার্যকর হবে না।

হজের খরচ কেমন হবে এবার?
আগামী বছরের হজ নিয়ে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় আগ্রহের জায়গা খরচ। তবে সৌদি প্রান্তের খরচ অপরিবর্তিত থাকলে ও সরকারের প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নিলে এবার হজের খরচ কমছে এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৭ এপ্রিল চলতি বছরের হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর হজ ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং আগামী বছর আরও কম খরচে মানুষকে হজে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনও হজকে আরও সাশ্রয়ী করার কথা জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে হজের খরচ কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সেটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদও আগামী বছর হজের খরচ কমানোর ইঙ্গিত দেন।

তবে হাবের মতে, এ মুহূর্তে খরচ কমবে নাকি বাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ সৌদি আরব এখনো সব সেবার চূড়ান্ত কাঠামো প্রকাশ করেনি।

হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হজ ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছি। বিমান ভাড়া কমানো সম্ভব হলে সামগ্রিক হজ ব্যয়ও কমবে এবং আরও বেশি মানুষ হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব আগামী হজ মৌসুমে সেবার কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে কম খরচের ‘ডি’ ক্যাটাগরির সেবা বাতিল করা হয়েছে। ফলে আগামী বছর হজযাত্রীদের জন্য এ, বি ও সি ক্যাটাগরির সেবাই থাকবে। এতে খরচের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ–১ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ ধরা হয় ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। এছাড়া হজ প্যাকেজ-২ এ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা ও হজ প্যাকেজ-৩ এ ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা খরচ ধরা হয়।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য খাওয়া ও কোরবানিসহ বিশেষ হজ প্যাকেজে খরচ ধরা হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সাধারণ প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনে ব্যয় হয় মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজের খরচ ধরা হয় ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।

নির্ধারিত সময়ে যেসব কাজ শেষ করতে হবে
সৌদি আরবের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত মক্কা ও মদিনার আবাসনের তথ্য নুসুক মাসার সিস্টেমে এন্ট্রি করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে ২০২৭ সালের হজ মৌসুমের কর্মপরিকল্পনাও জমা দিতে হবে। ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নুসুক মাসারের ই-ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তর, এয়ারলাইন্স নির্বাচন, কোটা বণ্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

২৯ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মিনা ও আরাফাতের তাঁবু সংরক্ষণের কার্যক্রম চলবে। এছাড়া ২৯ জুলাই থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সেবা প্যাকেজ গ্রহণের জন্য চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। এর আওতায় থাকবে তাঁবু, আবাসন, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা।

৮ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষ এখনো শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি। নতুন ব্যবস্থায় এ সুযোগ থাকবে না। গ্রামগঞ্জে এখনো অনেকেই মনে করেন শেষ সময়ে নিবন্ধন করলেও হজে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় এ ধারণা আর কার্যকর হবে না।— হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার

রোডম্যাপ অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হজযাত্রীদের তথ্য নুসুক মাসারে আপলোড করা হবে। একই সময়ের মধ্যে হজ অফিসের সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সনদ গ্রহণ কার্যক্রমও শেষ করতে হবে।

২৮ জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ভিসা ইস্যু চলবে। আর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ৮ এপ্রিল।

লাব্বাইক অ্যাপে প্রাক-নিবন্ধন সেবা চালু
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপে প্রাক-নিবন্ধন সেবা চালু করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ফলে এখন থেকে হজযাত্রীরা ঘরে বসেই অনলাইনে সরকারি মাধ্যমে হজের প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হজযাত্রা সহজ, মসৃণ ও নিরাপদ করতে এবং বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, অ্যাপটিতে বিভিন্ন সেবার পাশাপাশি সরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এটি ই-হজ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের একটি সমন্বিত (ইন্টিগ্রেটেড) প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

নতুন এ সেবার আওতায় একজন হজযাত্রী নিজেই ঘরে বসে প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন। এছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি চাইলে একজন হজযাত্রীর পক্ষ থেকেও প্রাক-নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অ্যাপটির মাধ্যমে অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধন ফি পরিশোধের সুবিধাও রাখা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রাক-নিবন্ধন ফি জমা দেওয়া যাবে।

এছাড়া যারা সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে চান, তারা মোবাইল অ্যাপ থেকে ভাউচার তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অফলাইনে প্রাক-নিবন্ধন ফি জমা দিতে পারবেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আশা করছে, নতুন এ সেবা চালুর ফলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব রিকনসিলেশনের লক্ষ্যে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হজের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গত ১৪ জুন থেকে প্রাক নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD