দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের অক্টোবরে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। সেখান থেকে কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ পতনের সময় ২৫.৯২ বিলিয়নে নেমে যায়। এর পর টানা ৪৪ মাস পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫শে জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬.০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৫৩ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত ২৪শে জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬.১০ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩১.৫৫ বিলিয়ন ডলার।
নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
চলতি বছরের ১৯শে জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছিল। গত ১৪ই জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়ায়। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসেবে ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।
দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে দ্রুত কমতে থাকে। একই সাথে ওই সময়ে ৮৪ টাকা থেকে প্রতি ডলারের দর উঠে যায় ১২০ টাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নামে।
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫২৮ কোটি ডলার বা ১৮.৩৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিলো প্রায় ২৭ শতাংশ। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিতে রয়েছে। ডলারের দরও স্থিতিশীল আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ ছাড়ও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।