সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন




তালিকায় গ্রামীণফোন, ইফাদ, ওভাই

২৬ কোম্পানিকে মোটরযানের জিপিএস বিক্রির অনুমতি দিলো বিআরটিএ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৯:০৫ pm
পরিবহন TRANSPORT STRIKE bus halt বাস ধর্মঘট
file pic

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়াতে মোটরযানে জিপিএস ট্র্যাকার সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২৬টি ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

এসব প্রতিষ্ঠান বিআরটিএর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মোটরযানের অবস্থান ও চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং সেবা দেবে।

বিআরটিএর ১০ আগস্ট হালনাগাদ করা প্রাথমিক তালিকায় টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড, ইফাদ ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড, ওভাই সলিউশন লিমিটেড, বন্ডস্টেইন টেকনোলজিস লিমিটেড, এনআইটিএস সার্ভিস (প্রাইভেট) লিমিটেড, নেক্সডিকেড টেকনোলজিস (প্রাইভেট) লিমিটেড, অন্যরকম ইলেকট্রনিকস কোম্পানি লিমিটেড, মনিকো টেকনোলজিস লিমিটেড, ট্র্যাকিং অ্যান্ড সার্ভে সলিউশনস ও এমটুএম কমিউনিকেশনস লিমিটেড।

প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত তালিকায় আরো রয়েছে থেন সিস্টেমস, অটনেমো লিমিটেড, ইজিট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড, ফরবিট লিমিটেড, অটো জেনারেশন লিমিটেড, ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, আজান টেক (প্রাইভেট) লিমিটেড, এম ট্র্যাক, সান সিটি বিজ, জিকার সলিউশনস, বঙ্গ টেকনোলজি লিমিটেড, মাকত্রো ইলেকট্রনিকস, ট্র্যাকিং বিডি (জিপিএস ট্র্যাকার বাংলাদেশ), মাইজিপিএস প্রাইভেট লিমিটেড ও আয়েশা টেকনোলজি। প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বিআরটিএর কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সংযোগ স্থাপন করেছে।

বিআরটিএর উদ্যোগ অনুযায়ী, মোটরযানে ব্যবহৃত জিপিএস ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত করার মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে গণপরিবহনের গতিবিধি নজরদারি, নির্ধারিত রুট অনুসরণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রকাশিত তালিকাটি প্রাথমিক বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে পরীক্ষামূলক এপিআই সংযোগের কার্যকারিতা ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস সংযোজন এবং তা বাধ্যতামূলকভাবে চালু রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২৫ ধারা ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৫৫ বিধি অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম হলো স্যাটেলাইটনির্ভর একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো যানবাহনের অবস্থান, চলাচলের পথ ও গতি নির্ণয় করা যায়। গণপরিবহনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি বাস কোথায় আছে, কোন পথে চলছে এবং নির্ধারিত গতিসীমা মানছে কিনা তা দূর থেকে নজরদারি করা সম্ভব হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্তির প্রমাণ জমা ও তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে নতুন রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে না। জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণও বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোয় দেয়া হয়েছে।

ভিটিএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একটি গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বসাতে এককালীন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে গ্রাহকদের। ডিভাইসভেদে এ খরচের পরিমাণ ৩-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর বাইরে সেবাটি ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে গ্রাহকদের।

জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি বাসের অবস্থান, চলাচলের পথ ও গতি সার্বক্ষণিক দেখা যাবে। কোনো বাস নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে ওভারস্পিড অ্যালার্ট পাওয়া যাবে। নির্ধারিত রুটের বাইরে গেলে জিওফেন্সিং অ্যালার্টের মাধ্যমে তা জানা যাবে। লাইভ ট্র্যাকিংয়ের সুবিধায় যাত্রীরাও একটি স্টপেজে অপেক্ষা করার সময় পরবর্তী বাসের অবস্থান জানতে পারবে।

বিআরটিএ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কেন্দ্রীয়ভাবে এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে। দুর্ঘটনা, বেপরোয়া গতি বা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যানবাহনের অবস্থান ও গতিপথ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরুতে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন ও সার্ভিস বাবদ পরিবহন মালিকদের বাড়তি খরচ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে। বাসের গতি ও অবস্থান নজরদারির আওতায় এলে রেষারেষি, নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল ও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তবে শুধু ডিভাইস স্থাপন করলেই হবে না। বিআরটিএর কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর রাখা এবং নিয়ম ভাঙলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়াই হবে এ উদ্যোগের সাফল্যের মূল শর্ত।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘গণপরিবহনে জিপিএস চালু হলে যানবাহনের গতি ও অবস্থান সার্বক্ষণিক নজরদারি করা যাবে। এতে বেপরোয়া গতি ও রুট ভঙ্গের মতো অনিয়ম কমবে, বাড়বে যাত্রী নিরাপত্তা। জিপিএসের তথ্য কাজে লাগিয়ে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।’




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD