বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন




১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি সই

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪৬ pm
এয়ারবাস এয়ার বাস এয়ারপোর্ট HSIA CAAB US-Bangla Airlines USBangla Airline US Bangla hazrat shahjalal international airport dhaka biman hazrat shahjalal international airport dhaka biman হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর ইউএস-বাংলা ইউএস বাংলা ইউএসবাংলা
file pic

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বুধবার রাতে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। বিমানের পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসাইন এবং এয়ারবাসের পক্ষে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এয়ারবাসের চারটি এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং ছয়টি এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ২০৩৩ সালে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কিছু উড়োজাহাজ পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। এয়ারবাসের সঙ্গে এ চুক্তি বিমানের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক বিস্তারে ভূমিকা রাখবে।

জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার বলেন, বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের প্রবৃদ্ধিতে এয়ারবাস অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। এ৩৫০ ও এ৩২১নিও বিমানের যাত্রীসেবা ও পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

যেভাবে এল এয়ারবাস

এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা শুরু হয় ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ ১০টি এ৩৫০ কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে তখন চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া বোয়িংয়ের দিকে মোড় নেয়। তখন ১৪টি বোয়িং কেনার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে আলোচনা আরও গতি পায়।

৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

এরপর সেপ্টেম্বরে আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়। এতে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। দুই দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান।

বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির পরও এয়ারবাসের প্রস্তাব বিবেচনায় ছিল। মে মাসে এয়ারবাস নতুন করে ১০টি উড়োজাহাজের প্রস্তাব দেয়। এতে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও রাখা হয়। পরে এ প্রস্তাবই চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেয়।

বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা এখন ৩৫টির। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি ও ১৬টি ন্যারোবডি।

বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮। পুরোনো উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরিয়ে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে ১০টি উড়োজাহাজ ইজারা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য পাইলট ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি অবকাঠামো তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD