সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন




মক্কা-মদিনা বাদে সৌদির সব বিমানবন্দরই হামলার টার্গেট হুথিদের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৪ am
Drone ড্রোন হুথি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত হুথি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র
file pic

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে বিমানবন্দরের ওপর এ আক্রমণ চালিয়েছেন। শুধু রিয়াদই নয়, পূর্ব সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, সৌদির ভেতরে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা বাদে সৌদির সব বিমানবন্দরই এখন তাদের সম্ভাব্য টার্গেট। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব দিতেই এ আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুদিনে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

গতকাল রোববার চালানো এ হামলায় বিমানবন্দরের একটি প্যাসেঞ্জার হলে আগুন ধরে যায়। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ওই ব্যক্তি একজন পাকিস্তানি নাগরিক। এর ঠিক একদিন আগেই একই বিমানবন্দরে ভয়াবহ আরেকটি হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন। সপ্তাহের শুরুতে এমন বেশ কয়েকটি হামলা চালানো হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ‘জ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের’ আঘাতে ৪ নম্বর প্যাসেঞ্জার হলে যে আগুন ধরেছিল, তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে কিনা, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ব্রিটেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দখলদার ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পর উপসাগরীয় কোনো দেশে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী একক হামলা। একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি জোট।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে দুজন, এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্দান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও হামলায় এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সৌদি জোট বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি। সেখানে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় একটি শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এ হামলার খবর নিশ্চিত করেনি এবং বিবিসিও তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে হুথি ও সৌদি জোটের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি গত জুলাইয়ে ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ই অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকাগুলো হুথিরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই সংঘাত তীব্র রূপ নেয়। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় এক চতুর্থাংশ এলাকা এবং মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশই হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, সৌদির দক্ষিণ সীমান্তে ইরানের প্রভাবে কোনো কট্টরপন্থি রাষ্ট্র তৈরি হোক—তা কোনোভাবেই চাচ্ছে না রিয়াদ।

সৌদি ও হুথিদের এ চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা ও সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন।

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD