দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭টি। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট। বিগত কয়েক বছর এইচএসসিতে শিক্ষার্থী কমছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাহিদা ছাড়াই নতুন নতুন কোর্স চালু করছে। ফলে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি সেমিস্টারে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকাই পড়ে থাকছে। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়েও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর জন্য যখন হাহাকার, ঠিক তখন নতুন করে আরও ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি)। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্যতা, প্রয়োজনীয়তা ও আইনি শর্ত পূরণের বিষয় যাচাই করছে ইউজিসি। যাচাইয়ে সব ঠিক থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদনগুলো প্রতিবেদন আকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে সংস্থাটি।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন চেয়ে আবেদন
খুলনার নৌবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্স, রাজশাহীর আশ্রয় ইউনিভার্সিটি, ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিভার্সিটি অব ইন্টিগ্রেটেড থট, গাজীপুরের বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি, ঢাকার যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, সাভারের গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটি, ঝিনাইদহের সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয় ও ভ্যারিটাস ইউনিভার্সিটি।
ইউজিসি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে যমুনা গ্রুপ। বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির জন্য আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন।
গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটির জন্য কৃষিবিদ গ্রুপের পক্ষে আবেদন করেছেন ড. মো. আলী আফজাল। ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির জন্য আনোয়ারুল ইসলাম এবং সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সৃজনী বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম হারুন অর রশীদ।
যা বলছে ইউজিসি
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদন যাচাই-বাছাই করছে ইউজিসি। কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই চলছে। সম্ভাব্যতা, অবকাঠামো, অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা, শিক্ষক নিয়োগসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসব বিষয় যাচাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমার জায়গা থেকে কথা বলা সমীচীন হবে না। এটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন। যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তখন বিস্তারিত বলা যাবে।’
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে দেখা হচ্ছে। আবেদন করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থী পড়াতে চায়, সেসব বিষয়ের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যেসব সাবজেক্ট তারা পড়াতে চান, সেসব সাবজেক্টের সত্যিকার অর্থে প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, সে বিষয়গুলোও যাচাই করা হচ্ছে।