শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন




রাজধানীতে ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু রোববার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:০৯ pm
বাস axi pickup microbus truck highway hig hway যানবাহন রোড সড়ক মহাসড়ক যানজট রাস্তা বাস গাড়ি সড়ক road bus gridlock Study in India comp uttara road accident উত্তরা রোড দুর্ঘটনা এক্সিডেন্ট দুর্ঘটনা রোড সড়ক মহাসড়ক যানজট রাস্তা বাস গাড়ি সড়ক Accident road bus gridlock Study in India comp Road Accident road যানজট
file pic

রাজধানী ঢাকায় বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও যাত্রীবান্ধব করতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আগামীকাল রবিবার (১ নভেম্বর) ৩২টি প্রস্তাবিত রুটের মধ্যে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা কমবে, বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানান, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা চলে আসছে, তা দূর করতেই বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় ৯৮টি সচল বাস রুট রয়েছে। এসব রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানবাহন চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আমরা চাই, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হোক।

ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় ২০১১ সালে। সে সময় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের (ডিটিসিবি) মাধ্যমে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০১৯ সাল থেকে ডিটিসিএ পূর্ববর্তী বিভিন্ন সমীক্ষা পর্যালোচনা করে একটি হালনাগাদ পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বাস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৩২টি রুটের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

এসব তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট মডেল তৈরি করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যাত্রী চলাচলের প্রবণতা, রুটের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ডিটিসিএর পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরির হিসাব করা হয়েছে। এটি মোট পার্সন ট্রিপের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রস্তাবিত রুটগুলোর গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান কোনও না কোনও বাস রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে বিদ্যমান বাস চলাচলের পথ ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহার করেই নতুন ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবন্দর, মিরপুর-১০, কুড়িল, গাবতলী, মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীকে কেন্দ্র করে একাধিক রুটের সংযোগ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ছয়টি নতুন বাসরুট হলো

১. গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আজিমপুরের ডাকেশ্বরী মন্দির ভায়া আব্দুল্লাহপুর;

২.মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে চুনকুটিয়া ভায়া সাইন্সল্যাব;

৩. মোহাম্মদপুরের বসিলার ঘাটার চর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত ভায়া শাহবাগ মৎস্য ভবন;

৪. মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ভায়া সাইন্সল্যাব জিগাতলা;

৫. মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ পর্যন্ত ভায়া মিরপুর ১০;

৬. টঙ্গী কলেজ গেট থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ভায়া আব্দুল্লাহপুর।

পরিবহন মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ডিটিসিএ পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ছয় কোম্পানির মধ্যে প্রজাপতি, পরিস্থান ও বিকাশ তিন কোম্পানি মিলে নাম নির্ধারণ করা হয়েছে পিপিবি সিটি পরিবহন।

রুটগুলোর একটি গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর-মহাখালী-মানিক মিয়া-কলাবাগান হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত। বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ভিআইপি পরিবহন মিলে একটি কোম্পানি গঠন করে এ রুটে বাস পরিচালনা করবে।

আরেকটি রুট হলো গাবতলী-শ্যামলী-আগারগাঁও-মহাখালী-রামপুরা-ডেমরা। এ রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখ পরিবহন ও রইচ পরিবহন মিলে একটি কোম্পানি গঠন করে বাস পরিচালনা করবে।

পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া আরেকটি রুট হলো
দুয়ারীপাড়া-টেকনিক্যাল-আসাদগেট-নিউমার্কেট-সদরঘাট। এ রুটে ট্রান্স সিলভা, দিশারী পরিবহন, মেট্রো লিংক কোম্পানি বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে সমন্বয় করে বাস পরিচালনা করবে।

মালঞ্চ পরিবহন, রমজান এন্টারপ্রাইজ, মিডলাইন পরিবহন ও রজনীগন্ধা পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে ঘাটারচর-সায়েন্স ল্যাব-মৎস্য ভবন-মালিবাগ-রামপুরা-ডেমরা রুটে বাস পরিচালনা করবে। একই পদ্ধতিতে ঘাটারচর-মোহাম্মদপুর-সায়েন্স ল্যাব-কাকরাইল-হানিফ ফ্লাইওভার-চিটাগাং রোড-কাঁচপুর রুটে বাস পরিচালনা করা হবে।

স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহন বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে মিরপুর ১২-ফার্মগেট-গুলিস্তান-মাওয়া পর্যন্ত রুটে বাস চালাবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD