পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে টানা অষ্টম দিনে আজ বৃহস্পতিবারও সড়ক অবরোধ চলছে। এতে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সন্তু লারমা গ্রুপের জেএসএস সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ দুটি সংগঠন সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
একটানা অষ্টম দিনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাজেকে সড়ক অবরোধ চলাকালে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করছে না। অবরোধকারীরা সকালে সড়কের বাঘাইহাটের ১০ নম্বর, মাচালং ১৪ কিলো এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অবরোধ চলাকালে এখনো পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেখানকার স্থানীয় মানুষ নিত্যপণ্য সামগ্রীর সংকটের মধ্যে পড়েছেন।
এদিকে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চার দফা দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে একমত না হওয়ায় আলোচনাটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। তবে অবরোধকারীদের সঙ্গে ফের আলোচনার জন্য এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাজেকে পরিস্থিতি এক অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটে যাচ্ছে।
এ ছাড়া সাজেক পরিস্থিতি নিরসনে জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি গত সোমবার বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় হেডম্যান-কার্বারিদের মতবিনিময় সভা করেছেন। তবে সেখানে আন্দোলনকারী কার্বারি সংগঠন থেকে কেউ অংশ নেননি। এ কমিটির আলোচনাও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
কমিটির সদস্য ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়ার পর আমরা সেখানকার স্থানীয় হেডম্যান-কার্বারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছি। মতবিনিময় সভার বিষয়ে বিস্তারিত জেলা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ কমিটিকে যদি পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে আরও ডাকা হবে।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কে অবরোধকারীদের কোনো পিকেটিং দেখা যায়নি। এখনো পর্যন্ত কোথাও সংঘাতের খবরাখবর পাওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত নির্দেশনা নেই। তবে সড়ক অবরোধ চলছে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।