রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার সন্ধ্যায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।
উপাচার্য বলেন, ঘটনা তদন্তে উপউপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার অফিস সময়ে কমিটিকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি ইস্যু করা হবে। এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল হাসান এবং সহকারী প্রক্টর আরিফুর রহমান।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে বর্তমানে অনেকেই মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্থিতিশীল দেখা যাচ্ছে। গত রোববার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত উত্তাল থাকার পর আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাবি ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে।
সকাল থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা খুব একটা লক্ষ করা যায়নি। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এখনো ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনকারীদের রাখা গাছের গুঁড়ি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ছোট যানবাহনগুলো চলাচল শুরু করেছে।
অন্যদিকে, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার পর ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম।
এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসংলগ্ন রেললাইনে টায়ার ও চারুকলা অনুষদের শিমুল ফুলের ডামি জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় স্লিপার খুলে রেললাইন উপড়ে ফেলেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য জলকামান নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের ক্রাইসিস রেসকিউ টিম। তাদের উপস্থিতি দেখে শিক্ষার্থীরা পালিয়ে যায়। এরপর রেলওয়ের কর্মকর্তারা এসে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল উপযোগী করেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আজ আমরা প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক করব। আসলে এ ঘটনায় কী করা যায়? পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের দাবিগুলো শুনে কাজ শুরু করব। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কাজ চলমান রয়েছে।’