মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন




যে কারণে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০২৩ ৭:৫৬ pm
Bangladesh Cricket board bcb বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি Mehidy Hasan Miraz cricketer batsman ক্রিকেটার ক্রিকেট মেহেদী হাসান মিরাজ mehedi
file pic

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ড তখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তাসকিন আহমেদের ১৪তম ওভারে আর ৯ রান পেলেই সফরকারীরা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে। ওই ওভারে ক্যাম্ফার একটি চার ও শেষ বলে ফাইন-লেগ দিয়ে বিশাল এক ছক্কা মারতেই ৬ ওভার আগে ৭ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে। অথচ তিন ওয়ানডের পর প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টিতে যে দলটি সামান্যতম প্রতিরোধও গড়তে পারেনি, তারাই কিনা দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিলো!

বাংলাদেশ আগের ৫ টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের সবটা লুফে নিয়েছিল। শেষ ম্যাচে দেখা গেলো সাকিব-লিটনদের সাফল্যের ঘুরি গোত্তা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে। মূলত ভুল ব্যাটিং অ্যাপ্রোচের কারণেই তাদের ভুগতে হয়েছে। আগের দুই ম্যাচে দুইশো প্লাস রান করা বাংলাদেশ শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিতে উঠতে পারেনি। স্কোরবোর্ডেও যথেষ্ট রান তুলতে না পারায় বোলাররাও লড়াই করার রসদ পায়নি।

টানা দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগে দারুণ ক্রিকেট খেলে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এমন দাপুটে জয়ে কোথাও খুঁত ছিল না। অথচ এমন প্রভাব বিস্তার করে দুটি ম্যাচ জেতার পর শুক্রবার সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে ‘বিশ্রী’ভাবে হোঁচট খেয়েছে। পল স্টার্লিং কথা রাখলেও সাকিব আল হাসান কথা রাখতে পারেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ হেরে বিধ্বস্ত কণ্ঠে আইরিশ অধিনায়ক শেষ ম্যাচে প্রতিরোধ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। অন্যদিকে, সাকিব জানিয়েছিলেন একাদশে বদল আনলেও তাদের লক্ষ্য থাকবে হোয়াইটওয়াশ। কিন্তু দিন শেষে হাসলো পল স্টার্লিংরা।

ম্যাচ অ্যাওয়ারনেস বলে ক্রিকেটে একটি টার্ম আছে। শুক্রবার সেই টার্ম মেনে বাংলাদেশের টপ অর্ডার-মিডল অর্ডারের কোন ব্যাটার ব্যাটিং করেনি। প্রথম দুই ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে রেকর্ড গড়া বাংলাদেশ আজ ৪ উইকেট হারিয়েছে। প্রথম ৪ ওভারে সাজঘরে ফিরেছেন লিটন দাস, রনি তালুকদার ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। তার পর সাকিব আল হাসানদের স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে হতো। সেই জায়গাতেই ভুল করে বসে তারা। ৬ ওভারে ৪১ রানে চার উইকেট হারানোর পর ধীরস্থির, ঠাণ্ডা মাথায় খেলতে পারলে স্কোরবোর্ড আরও সমৃদ্ধ হতো। সেটি হয়নি মূলত ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতায়।

ব্যাটারদের মধ্যে ইনটেন্ট থাকলেও ম্যাচ অ্যাওয়ারনেসের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারানোর পর কিছুটা ধীরে চলো নীতিতে এগুনোর প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। সেই জায়গায় একমাত্র শামীম হোসেন ছাড়া দলের কোন ব্যাটার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যাটিং করতে পারেননি। ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন তিনি। তার আগে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। আউট হওয়ার আগে ৪২ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় খেলেছেন ৫১ রানের ইনিংস। শামীমের এই ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ ১২৪ রান সংগ্রহ করতে পারে।

ভালো ব্যাটিং উইকেটে আইরিশদের জন্য এমন লক্ষ্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। তারপরও আশা ছিল বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ফলাফল পক্ষে আসার। কিন্তু শেষ ম্যাচে দেখা গেলো পুরো সিরিজে বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্স থাকলেও আজ সেটি অনুপস্থিত। তাসকিন-হাসান মাহমুদ-শরিফুলরা জায়গা মতো বোলিং করতে পারেননি। সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অভিষিক্ত লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। আইরিশ অধিনায়ক পল স্টার্লিং যেভাবে ছড়ি ঘুরিয়েছেন, তাতে বোঝা গেছে আগের ম্যাচগুলোতে কতটা ভালো খেলেছিল বাংলাদেশ। ৪১ বলে ১০ চার ও ৪ ছক্কায় আইরিশ অধিনায়ক ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে প্রথমবার জয়ের স্বাদ দিয়েছেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই জয়টি একমাত্র টেস্টের আগে সফরকারী আয়ারল্যান্ডকে নিশ্চিতভাবেই উজ্জ্বীবিত করবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD