রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানা অন্যতম। শিশুদের নানান পশুপাখির সঙ্গে পরিচিত করাতে অনেকেই সাধারণ সময়গুলোতেই যান সেখানে। তবে যেকোন উৎসবে-ছুটির দিনে মানুষের ঢল নামে এই বিনোদন কেন্দ্রে। শনিবার (২২ এপ্রিল) ঈদুল ফিতরের প্রথম দিনেও ছিল যথারীতি মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
ঈদের সকাল থেকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায়, কেবলই ঢাকার মানুষই নয়, আশপাশের এলাকা থেকেও এসেছেন দর্শনার্থীরা। এদিকে ঈদের প্রথম দিনে আশানুরূপ দর্শনার্থীতে সন্তুষ্ট চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও। দ্বিতীয় দিন প্রথম দিনের চেয়েও সংখ্যা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
কিশোরগঞ্জ থেকে ভাই, বোন ও দুলাভাইকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছে তানভির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগে আমরা কখনও এখানে আসিনি, আজকেই প্রথম আসলাম। চিড়িয়াখানা অনেক বড় জায়গা। পুরোটা ঘুরে দেখবো।’
মো. ইয়াসিনরা চার বন্ধু এসেছেন টঙ্গী থেকে। বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের দিনে ঘোরাঘুরিতেই তারা মজা করছেন। এর আগে পহেলা বৈশাখেও এসেছিলেন তারা। তবে সেদিনের তুলনায় আজ সমাগম বেশি বলে জানালেন এই যুবক।
স্ত্রী, সন্তান আর শ্যালক-শ্যালিকাকে নিয়ে ঘুরতে সাভার থেকে এসেছেন মো. মানিক মিয়া। তিনি বলেন, ‘কাজের চাপে পরিবার নিয়ে বের হওয়া হয় না। তাই ছুটিটাকে কাজে লাগিয়ে তাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বাচ্চারাও এখান থেকে কিছু প্রাণি দেখে যাচ্ছে। ওদেরও খুব ভালো লাগবে।’
এত মানুষের ভিড়েও শিশুরা বেশ উপভোগ করেছে চিড়িয়াখানা। চিরিয়াখানায় বিভিন্ন প্রাণিদের সরাসরি দেখতে পেরে তাদের আনন্দের সীমা নেই। ছোট্ট তাওসিন ঘুরতে এসেছে বাবার সঙ্গে। চিড়িয়াখানা তার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। সে জানায়, বাঘ, সিংহ, সাপ, পাখি ও হরিণ দেখেছে। কিন্তু সবচেয়ে ভালো লেগেছে বাঘ আর সিংহ।
বাবার সাথে ঘুরতে এসেছে আরেক শিশু ইচ্ছে। তারা থাকে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। ইচ্ছে বলে, ‘আমি বাঘ, ভাল্লুক ও ঈগলসহ অনেক পাখি দেখেছি। এর মধ্যে ভাল্লুক আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। আজ অনেক মানুষ এসেছে এখানে, অনেক মানুষ দেখেও ভালো লেগেছে।’
চিরিয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন চিড়িয়াখানায় বাঘ আছে ১৩টি, সিংহ আছে সাতটি, হাতি আছে পাঁচটি, জিরাফ আছে সাতটি, জেব্রা আটটি, জলহস্তী ১৩টি, ক্যাঙ্গারু দুটি, ভাল্লুক চারটি, হায়েনা তিনটি এবং গণ্ডার আছে একটি। এসব প্রাণির মধ্যে বাঘ-সিংহের খাঁচার সামনেই দর্শনার্থীর ভিড় ছিল বেশি।
চিড়িয়াখানার সঙ্গেই রয়েছে শিশুপার্ক। সেখানেও ছিল শিশুদের সরব সমাগম। বিভিন্ন রাইডে চড়তে দেখা গেছে তাদের লম্বা লাইন।
এবার ঈদে চিড়িয়াখানার নিরাপত্তা ছিল অন্যবারের তুলনার কঠোর। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ছিল টুরিস্ট পুলিশ। টুরিস্ট পুলিশের ঢাকা জোনের পরিদর্শক মো. কাউসার আলী বলেন, ‘দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা এখানে কাজ করছি। সকাল ৯টা থেকে আমরা এখানে আছি। এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এরকম কিছু হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমাদের এবার নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ চিড়িয়াখানায় টহলরত আছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
দর্শনার্থীর উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ ঈদের প্রথম দিন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার দর্শনার্থী এখানে এসেছেন। সন্ধ্যা নাগাদ এটা এক লাখ হবে বলে আশা করছি। আর দ্বিতীয় দিন থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। সেক্ষেত্রে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শনার্থী হবে বলে ধারণা করছি।