গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৪ মে) জরুরি বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে নৌকা মনোনীত প্রার্থী, এক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আবার সতর্ক করার সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাদেরকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়। পাশাপাশি মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাকে তলব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে আকস্মিক সভায় বসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
সভায় নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, মো. আনিছুর রহমান, ইসি সচিব জাহাংগীর আলম, অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ অংশ নেন।
ইতোমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলকে সতর্ক করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয় কমিশন। এছাড়া নৌকার মেয়র প্রার্থীকে ৭ মে ইসিতে তলব করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৪ মে) ফের নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খানের পক্ষে সভা করেন। যা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।
আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে ব্যাপক তৎপরতার মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও প্রতিমন্ত্রীকে সামলাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিইসিও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, দলীয় পর্যায়ে তাগাদা দেওয়ার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার চিঠি দেওয়ার পরও নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে ইসি। এ অবস্থায় পরবর্তী পদক্ষেপে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো আরেকবার সতর্ক করা হচ্ছে।
ছুটির দিনে সন্ধ্যায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনার করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বলেন, সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার ও সচিবের উপস্থিতিতে শুধু গাজীপুরের বিষয়টি নিয়েই আজ বেশ গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সতর্ক করার পরও কেন আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হলো সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীকেও চিঠি দিচ্ছে ইসি সচিবালয় থেকে। এখন পুনরাবৃত্তি ঘটলে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিবকে পাঠানো চিঠিতে ৪ মে প্রতিমন্ত্রী সভা করে মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানের পক্ষে ভোট চেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়ার পরও মেয়র প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য জাহিদ আহসান রাসেল কারও পক্ষে প্রচারে অংশ নেননি বলে দাবি করেছেন। রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়ে কোনও ধরনের প্রটোকল ছাড়াই এলাকায় যাওয়া-আসা করেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
নৌকার প্রার্থীকে আগে এক দফা চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়। ৪ মে ফের আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি স্মরণ করে দিয়ে আবার চিঠি দেয় কমিশন।
এতে বলা হয়, ৩০ এপ্রিল একদফা ব্যাখ্যা তলব করা হয়। তা স্বত্বেও বৃহস্পতিবার (৪ মে) প্রতিমন্ত্রী সভা করে আপনার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় ৭ মে এসে কেন প্রার্থিতা বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।