তামিম ইকবালের সঙ্গে কথা বলতে তাকে গণভবনে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দুপুরের পর তামিম গণভবনে প্রবেশ করেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণার পর থেকে রীতিমতো ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সিরিজের মাঝপথে তার আকস্মিক ক্রিকেট ছাড়ার বিষয়টি যেন কেউ মেনে নিতে পারেননি। গতরাতে ম্যারাথন মিটিং করে তামিম ইকবালকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
জানাগেছে তামিমের সঙ্গে গণভবনে আছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।
কাল চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম ইকবাল। এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাননি, প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি সাংবাদিকদেরও।
তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্যই তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করছেন সবাই। তামিম নিজেও নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, বোর্ড সভাপতির বক্তব্যে তাঁর মনে হয়েছে দলে হয়তো এখন আর সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রয়োজন নেই।
চট্টগ্রাম থেকে শুক্রবার সকালেই ঢাকায় ফেরেন তামিম। দুপুর ১টার দিকে মাশরাফির সঙ্গে কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর। পরে দুপুর ৩টার দিকে গণভবনে যান তামিম, তার স্ত্রী ও মাশরাফি।
আধ ঘণ্টার মতো প্রাথমিক কথোপকথনের পর সেখানে ডেকে নেওয়া হয় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানকেও।
আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি কিছু। তবে সেটি অনুমান করে নিতেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের চলতি ওয়ানডে সিরিজটি অধিনায়ক হিসেবেই শুরু করেন তামিম। কিন্তু প্রথম ম্যাচের হারার পর দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের একটি হোটলে নিজ উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন ডেকে কান্নাভেজা চোখে জানিয়ে দেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘটনা।
অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলেন বলে জানান তিনি। এর পেছনে ‘ভিন্ন ভিন্ন’ কারণ আছে বলেও জানান। তবে সেসব কারণের বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তবে একটি কারণের কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান তামিম। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ফিটনেস নিয়ে মন্তব্যের জের ধরে ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকায় বিসিবি সভাপতি যেভাবে প্রকাশে তামিমকে তুলাধুণা করেন, তাতে মানসিকভাবে আহত হন তিনি। অবসরের সিদ্ধান্তে এটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান তামিম।