শুরুর ধাক্কা সামলে দারুণ সেঞ্চুরি উপহার দিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তাকে সঙ্গ দিয়ে কার্যকর ইনিংস খেললেন জাকির হাসান, সৌম্য সরকার। বাংলাদেশ ‘এ’ দল পেল তিনশ ছাড়ানো স্কোর। যা তাড়া করার তেমন সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি আফগানিস্তান ‘এ’ দল। সহজ জয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ।
কলম্বোর পি সারা ওভালে মঙ্গলবার বাংলাদেশের জয় ২১ রানে। ৩০৯ রানের লক্ষ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৭ রানের বেশি করতে পারেনি আফগানরা।
দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে সেরা চারে নাম লেখাল বাংলাদেশ। সমান ৪ পয়েন্ট থাকলেও, শ্রীলঙ্কা ও ওমানের মধ্যে চলমান শেষ ম্যাচের ফলের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে আফগানিস্তানকে।
বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াইয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ১০০ রান করেন জয়। ১১৪ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।
এছাড়া জাকির ৬২ ও সৌম্য খেলেন ৪৮ রানের ইনিংস। পরে বল হাতেও দুটি শিকার করেন সৌম্য।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ছয় ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ছন্দে থাকা তানজিদ হাসান এদিন ইনিংস বড় করতে পারেননি। মোহাম্মদ নাঈম শেখ, অধিনায়ক সাইফ হাসানও পারেননি তেমন কিছু করতে। তিনজনকেই ফেরান সেলিম শফি।
৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন জাকির ও জয়। দুজন মিলে যোগ করেন ১১৭ রান। মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বলে বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খোলেন জাকির। প্রথম বলে ২ রান নিয়ে যাত্রা শুরু করেন জয়।
এরপর দেখেশুনে খেলে দলকে দেড়শ পার করান ডানহাতি-বাঁহাতি দুই ব্যাটসম্যানের জুটি। ৫৮ বল খেলে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ১৮তম পঞ্চাশ স্পর্শ করেন জাকির। পরের ওভারে চার মেরে ৫৪ বলে এই মাইলফলকে পা রাখেন জয়।
ফিফটি ছুঁয়ে বেশি দূর যেতে পারেননি জাকির। ইজহারুলহক নাভিদের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় লং অফ বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি। ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৭২ বলে ৬২ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
এরপর জয়ের সঙ্গে জুটি বাধেন সৌম্য। শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকেন লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। ষষ্ঠ বলে জিয়া উর রহমানকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মিড উইকেট দিয়ে মারেন ছক্কা।
পরে আরও দুটি ছক্কা মারেন সৌম্য। তবে অল্পের জন্য ছুঁতে পারেননি ব্যক্তিগত পঞ্চাশ। ৪২ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান সমান তিনটি করে চার-ছক্কায়। সৌম্যর বিদায়ে ভাঙে ৭৯ রানের জুটি।
অপরপ্রান্তে অবিচল থাকেন জয়। শরাফউদ্দিন আশরাফকে ছক্কা মেরে তিনি পৌঁছান তিন অঙ্কে। তবে সেলিমের পরের বলে আবারও ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ধরে ড্রেসিং রুমের পথ।
শেষ দিকে দারুণ ক্যামিও খেলেন শেখ মেহেদি হাসান। তার ৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনশ পেরোয় বাংলাদেশ। রকিবুল হাসান করেন ১২ বলে ১৫ রান।
আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন সেলিম।
রান তাড়ায় শুরুতেই জুবাইদ আকবারিকে ফেরান রকিবুল। দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ রানের জুটি গড়েন রিয়াজ হাসান ও নুর আলি জাদরান। রানের গতি অবশ্য বাড়াতে পারেননি তারা দুজন।
২৬তম ওভারে নুরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তানজিম হাসান। ৫৭ বলে ৪৪ রান করেন নুর। তিনি না পারলেও ফিফটি পূর্ণ করেন রিয়াজ। দলীয় দেড়শ ছোঁয়ার আগে ফেরেন তিনিও। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ বলে করেন ৭৮ রান।
এরপর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন শহিদউল্লাহ কামাল ও বাহির শাহ। দুজনের ৫৬ বলের জুটিতে আসে ৭০ রান। ৪৭ বলে ৪৪ রান করা শহিদউল্লাহকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক এই জুটি ভাঙেন রকিবুল।
পরে চেষ্টা করেন বাহির। তবে তার ৫০ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে শুধু আফগানিস্তানের পরাজয়ের ব্যবধানই কমে।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তানজিম। রকিবুল ও সৌম্য ধরেন ২টি করে শিকার। কোনো উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে দুই মেডেনসহ স্রেফ ৩৩ রান খরচ করেন মেহেদি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ৩০৮/৭ (নাঈম ১৮, তানজিদ ৯, জাকির ৬২, সাইফ ৪, জয় ১০০, সৌম্য ৪৮, আকবর ৩৬, মেহেদি ৩৬*, রাকিবুল ১৫*; ইব্রাহিম ১০-০-৭৩-১, সেলিম ১০-১-৬৫-৪, জিয়া ৯-০-৪১-১, শহিদউল্লাহ ৩-১-১৫-০, শরাফউদ্দিন ১০-০-৪৬-০, ইজহারুলহক ৮-০-৫৯-১)
আফগানিস্তান ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ২৮৭/৮ (রিয়াজ ৭৮, আকবারি ১০, নুর ৪৪, শহিদউল্লাহ ৪৪, বাহির ৫৩*, ইকরাম ১, শরাফউদ্দিন ১৪, ইজহারুলহক ১৫, জিয়া ৬, ইব্রাহিম ৬*; মেহেদি ১০-২-৩৩-০, রিপন ১০-০-৯৩-১, রাকিবুল ১০-১-৩০-২, তানজিম ১০-০-৬৭-৩, সৌম্য ১০-০-৬১-২)
ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ দল ২১ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহমুদুল হাসান জয়