সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কের সচিব এ.বি.এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেছেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন পরিচালিত একই কার্যক্রমে প্রায় ৬ শতাধিক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে ৩৬ শতাংশ চালক উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছে। এছাড়া, ১৭ শতাংশ চালকের দৃষ্টিজনিত সমস্যা এবং প্রায় ৭ শতাংশ চালকের চোখের ছানির সমস্যা আছে। যানবাহন পরিচালনা করার সময় চালকদের যদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে তাহলে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই চালকদের উচিৎ স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে মোটরযান চালানো।
বুধবার সকালে রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় বিআরটিএ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৩ উপলক্ষে বিনামূল্যে মোটরযান চালকদের স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন। নিরাপদ সড়ক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘আইন মেনে সড়কে চলি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি’।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিআরটি এর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, আমাদের দেশের চালকরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে চোখের সমস্যা নিয়ে তারা গাড়ি চালায়। এটি সড়ক দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ। গাড়ি চালকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এবছর দেশব্যাপী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ওয়েসিস, রোটারী ক্লাব অব আবাহানীকুঞ্জ ঢাকা ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগীতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে করে চালকরা সচেতন হবে বলে আমি মনে করি।
এই কার্যক্রম থেকে যে সকল চালকদের চোখের সমস্যা পাওয়া যাবে তাদের পরবর্তী পরীক্ষা, চশমা প্রদান ও ছানি অপারেশন বিনামূল্যে প্রদান করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি আলহাজ অধ্যাপক ড. কাজী শরীফুল আলম বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগীতা প্রদানে চালকদের প্রতি অনুরোধ জানান এবং সকল চালককে তাদের নিজ নিজ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহবান করেন বলেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেইফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ওয়েসিসের প্রেসিডেন্ট লায়ন মোস্তফা ইমরুল কায়েস (এমজেএফ), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, রোটারী ক্লাব অব আবাহানীকুঞ্জ ঢাকার রোটা পিপি শেখ জাহাঙ্গীর আলম (পিএইচএফ), বিআরটিএ’র পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, বিভাগীয় পরিচালক মোঃ শহিদুল্লাহ, পরিচালক মোঃ লোকমান হোসেন মোল্লা এবং সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন।