বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন




কক্সবাজার: নামে পর্যটন শহর, নিরাপত্তা উপেক্ষিত

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৭ pm
Cox’s Bazar beachfront Sea Beach সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার Tourism ভ্রমণ পর্যটন ট্রাভেল ট্যুরিজম Bangladesh Parjatan Corporation
file pic

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা এমনই। যত্রতত্র হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ নির্মাণ, নিয়মনীতি না মানা এবং প্রশাসনের দুর্বল নজরদারিতে বাড়ছে ঝুঁকি। ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে জোরালোভাবে সামনে এনেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতির ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ পর্যটন খাত। কিন্তু দেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কক্সবাজার সেই স্তরে পৌঁছাতে পারছে না। একটি আদর্শ পর্যটন শহরে যা কিছু বিদ্যমান থাকার কথা, তার অধিকাংশ কক্সবাজারে অনুপস্থিত। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাব রয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জরিমানার মধ্য দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যায়।

কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। পূজার ছুটির পর সব সংস্থা মিলে এটি শুরু হবে। এর আগে শনিবার হোটেল, রিসোর্ট মালিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপদ পর্যটনের জন্য করণীয় বিষয়ে সেখানে উঠে আসবে। টুপটুপ ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারে ঠিক কতগুলো হোটেল রিসোর্ট রয়েছে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমরা প্রতিদিন সার্ভে করি না। কিন্তু অনেকে রাতারাতি হোটেল, রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। তবে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ হোটেল, রিসোর্ট ও মোটেল রয়েছে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। পূজার ছুটির পর আমরা বড় পরিসরে অভিযান চালাব।’

মো. আ. মান্নান বলেন, ইকো রিসোর্টের প্রতি পর্যটকের আগ্রহ বেশি। চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে রাতারাতি ইকো রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল থাকলে অনেক সময় পর্যটকদের অনুরোধের কারণে যাত্রীদের নিয়ে বাসগুলো শহরে প্রবেশ করে। পর্যটকরা তাদের হোটেলের সামনে বা কাছাকাছি স্থান থেকে বাসে উঠতে চান।

গত সোমবার কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে যানবাহন থামিয়ে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ও বিকেলে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রায় ৫০টি যানবাহনের যাত্রীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন। ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন যাত্রীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে। ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশ পরা এক দল সশস্ত্র ডাকাত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। কক্সবাজারে এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।

কক্সবাজার ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারে অনিরাপদ পর্যটনের পেছনে বেশ কিছু কারণ দায়ী। এর মধ্যে আছে, সৈকতসহ পুরো শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব। পর্যটকদের টার্গেট করে একের পর এক গড়ে উঠেছে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকরা সেখানে রাত কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল। মেরিন ড্রাইভের পাশে জমি কিনছেন প্রভাবশারীরা।

কক্সবাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসনে বৈধ ফায়ার লাইসেন্স নেই। সৈকতজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য, চিপসের প্যাকেট ও নানা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। বেশির ভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট পয়োনিষ্কাশন ও তরল বর্জ্য শোধনাগার নেই। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) অবৈধভাবে বহু রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন জোনিংয়ের অভাব কক্সবাজারের কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা এখন একটি ‘কংক্রিটের জঙ্গলে’ পরিণত হয়েছে।

কোনো সুনির্দিষ্ট পর্যটন জোনিং বা মহাপরিকল্পনা না থাকায় যত্রতত্র বহুতল ভবন উঠছে। পাহাড় কাটা, বালিয়াড়ি দখল এবং বাঁকখালী নদী ভরাটের মতো পরিবেশবিধ্বংশী কর্মকাণ্ড শহরের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। সৈকতে হকার, ভিক্ষুক এবং অপেশাদার গাইডদের কারণে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হন।

ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপে মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার অটোরিকশা হয়ে উঠছে দুর্ঘটনার কারণ। আবার পর্যটকদের জন্য খোলা গাড়ি শহরের ভেতরে যেখানে সেখানে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের চোরাবালি ও অদৃশ্য গর্তে ডুবে প্রতিবছরই পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রে ভাটার সময় লাল পতাকা বা বিপৎসংকেত থাকার পরও অনেক পর্যটক তা মানছেন না, আর সেখানে লাইফগার্ডের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।

ছুটির দিনগুলোতে বা পর্যটনের ভরা মৌসুমে হোটেল ভাড়া কয়েকগুণ করা হয়। এর জন্য একটি কার্যকর ভাড়ার রেগুলেটরি বোর্ড থাকা প্রয়োজন। কতজন পর্যটক আসছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বা ডেটাবেজ আমাদের কাছে নেই। তথ্যের অভাবে কোনো সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না।
গত চার-পাঁচ দিনে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণি ও কলাতলী পয়েন্টে চার শতাধিক দোকান-রেস্তোরাঁ বসানো হয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান ও অন্যান্য বালিয়াড়ি দখল করে আরও দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, দেশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩টি এলাকার একটি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা

নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, মাটি, পানি ও বায়ুর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট করতে পারে– এমন সব কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, কক্সবাজার সৈকতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে নির্মিত সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে কক্সবাজারে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার।

মুজিবুল হক বলেন, এ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে সৈকতসংলগ্ন প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জোনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর পরও সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে নয়তলা বিশিষ্ট তারকা মানের আবাসিক হোটেল ‘উইন্ডি টেরেস’। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি এ হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাড়পত্রবিষয়ক কমিটির ৯৪তম সভার সিদ্ধান্ত মতে ১২ শর্তে এ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অর্থাৎ পয়োবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে এর নকশা এবং কার্যকারিতা প্ল্যান পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এসব শর্তে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিবেশ ছাড়পত্রের নবায়নও করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের পর এ হোটেলের পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রেখেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয় থেকে হোটেল উইন্ডি টেরেস কর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, পয়োবর্জ্য শোধনাগারের ড্রয়িং, ডিজাইন ও ক্যালকুলেশন, হালনাগাদ আয়কর প্রত্যয়নপত্র এবং এসটিপি নির্মাণের অগ্রগতির কাগজপত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা  বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের পর ৯ মাস পার হলেও তারা কোনো কাগজপত্র পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেয়নি। এসব কাগজপত্র জমা দিতে না পারলে পরিবেশ ছাড়পত্র আর নবায়ন করা হবে না। পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৪৪টি আবাসিক হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শর্তপূরণ করতে না পারায় ২৯ হোটেলের ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি হোটেলে পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে।

সড়কে অব্যবস্থাপনা
কক্সবাজার পৌরসভার ১১ কিলোমিটার সড়কে ২৩ হাজারের বেশি তিন চাকার যান চলাচল করে। এর বাইরে দূরপাল্লার আরও চার শতাধিক গণপরিবহন, পাঁচ হাজারের বেশি মিনিবাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কার-জিপ চলাচল করে। টানা কয়েক দিনের ছুটিতে যখন কক্সবাজারে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে, তখন যানবাহনের সংখ্যা আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বেড়ে যায়।

কক্সবাজার শহরে তিন হাজার ইজিবাইক চলতে পারে। কিন্তু এখন চলছে ২৩ হাজার। গত এক বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে এসব যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। শহরের বাইরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মাত্র দুই শতাধিক বাস রাখার জায়গা রয়েছে। অবশিষ্ট গাড়ি ফেলে রাখা হয় বাইপাস, কলাতলী ও সৈকত সড়কের দুই পাশে।

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ বলেন, এক যুগ আগে শহরে চলাচলের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছিল। সম্প্রতি আরও ৫০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু শহরের অভ্যন্তরে চলাচল করছে ২০ হাজারের বেশি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইজিবাইক জব্দ করা হলেও গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গণি জানান, কক্সবাজার শহরে চলাচল করা তিন চাকার গাড়িগুলোয় ব্যাটারি চার্জ দিতে দৈনিক দুই থেকে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। শহরের নানা জায়গায় গ্যারেজে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, তিন চাকার যান এতই বেড়েছে যে সড়কে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। শহরের লালদীঘিরপাড় থেকে বার্মিজ মার্কেট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। যানজটের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD