কানাডিয়ান সরকার বাড়ির মালিকানাকে আরও অ্যাক্সেসযোগ্য করার উপায়গুলো অন্বেষণ করছে, যার মধ্যে ‘হালাল মর্টগেজ’ হিসাবে উল্লেখ করা শরিয়া-সম্মত কার্যক্রম চালু করা অন্যতম।
জাস্টিন ট্রুডো সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে সে দেশের অ্যানুয়াল বাজেটে। যে সব কানাডিয়ান নিজেদের বাসা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদের সহায়তা দেয়ার জন্য জাস্টিন ট্রুডো সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অন্যতম হলো এই পদক্ষেপ।
ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মর্টগেজ বা বন্ধক অফার করে সুদের বিকল্প রাস্তা হিসেবে। কানাডার কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবশ্য আগে থেকেই শরিয়ত আইন মেনে মর্টগেজ বা বন্ধকে লোন দিচ্ছে, তারা সুদ নিচ্ছে না মুসলিমদের কাছ থেকে। তবে সে দেশের সব চেয়ে বড় পাঁচটি ব্যাংক এভাবে এতদিন টাকা ধার দিত না।
এবার বাজেটের পর তাদের নীতির বদল হবে, এমনই সম্ভাবনা। এ ক্ষেত্রে অবশ্য নির্দিষ্ট ভাবে দেশের মুসলিম সমাজের কথা মাথায় রাখা হয়েছে। কারণ, ইসলামি আইন বা শরিয়ত আইন অনুযায়ী সুদ নিষিদ্ধ। টাকা ধার দেয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প রাস্তা হতে পারে হালাল মর্টগেজ। সে জন্যই এই ব্যবস্থা।
একই সঙ্গে কানাডার এ বারের বাজেটে সে দেশে বাড়ি কিংবা আবাসিক সম্পত্তি কেনার ব্যাপারে বিদেশিদের উপর আরোপ করা হয়েছে দু’বছরের নিষেধাজ্ঞা।
যেটা কার্যকর হবে ২০২৩-এর ১ জানুয়ারি থেকে। সরকার দাবি করেছে যে, কানাডিয়ানদের বসবাসের জন্য বাড়ি আছে তা নিশ্চিত করার জন্য এটি করা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে, সরকার ঘোষণা করেছে যে এটি কানাডিয়ান বাড়িগুলোর বিদেশি ক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত করতে চায়।
হালাল মর্টগেজগুলো ইসলামি আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা সুদের একটি রূপ বিবেচনা করে সুদের ওপর চার্জকে নিষিদ্ধ করে। অন্যান্য আব্রাহামিক বিশ্বাস, যেমন ইহুদি ধর্ম এবং খ্রিস্টান ধর্মও সুদকে একটি পাপ হিসাবে দেখে। কানাডার নাগরিকরা যারা ঘর-বাড়ির মালিক হতে চাইছেন, তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ট্রুডো সরকার আলোচনা যে শুরু করেছে, সে কথা জানানো হয়েছে কানাডা বাজেট ২০২৪-এ। তারই উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হালাল মর্টগেজ। যে ব্যবস্থা ইসলামি বা শরিয়ত আইনের পরিপন্থী নয়। বিদেশি বাণিজ্যিক উদ্যোগ এবং কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন ব্যক্তিদের কানাডায় আবাসিক সম্পত্তি ক্রয় নিষিদ্ধ করা হবে, বাজেট নথিতে একথা বলা হয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস