সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন




রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ বছর

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪ ৫:৪৮ pm
ru Rajshahi University রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাবি
file pic

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সংক্ষিপ্তভাবে রাবি নামে পরিচিত। উত্তরের জনপদকে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও গৌরবের সঙ্গে ৭১ বছর পার করে আজ ৭২ বছরে পদার্পণ করলো প্রাচ্যর ক্যামব্রিজ খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টি।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গুণগত শিক্ষা প্রদান, গবেষক তৈরি, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে মতিহারের সবুজ চত্বরে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমে ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষকও রয়েছেন এক হাজারের অধিক।

দেশের দ্বিতীয় প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে ইতোপূর্বে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, কবি, লেখক, শিল্পী, খেলোয়াড়, নাট্যকার, অভিনেতা ও উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন থেকে শুরু করে বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ভাষাবিজ্ঞানী ড. এনামুল হক, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক, অর্থনীতিবিদ সনৎ কুমার সাহা, প্রখ্যাত তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত বিচারপতি হাবিবুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অধ্যয়ন করেছেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অসামান্য অবদান। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবিবুর রহমান, অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, মীর আবদুল কাইয়ুমসহ অনেকে।

ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন বছর হলো। আমি যখন দায়িত্ব নিই তখন একটা মাৎস্যন্যায়ের সময় চলছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে। সে অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে আমি সবার সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সেটি করতে গিয়ে প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হলেও, এখন আশা করছি একটি পর্যায়ে গেছে। আমরা বর্তমানে গবেষণা এবং লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বেশ এগোনোর চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, বিগত তিন বছরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানান কাজ করেছি। গবেষণার ক্ষেত্রে গত তিন বছরে বাজেটের বাইরেও প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা এনেছি। যা দিয়ে বিভিন্ন গবেষণার সরঞ্জামাদি কেনা হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা চলছে। তারই প্রতিফলন হলো বিভিন্ন র‌্যাংকিংগুলোতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে আসছে। আমি আশা করছি, এর ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি পর্যায়ে চলে যাবে।

উপাচার্য আরও বলেন, আজকের দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং উপাচার্য হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানকে শুভকামনা জানাচ্ছি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD