রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন




প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪ ৫:৩৮ pm
মানি লন্ডারিং সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ সংস্থা সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন এসটিআর নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন সিটিআর মানি লন্ডারিং এমএল সন্ত্রাসের অর্থায়ন টিএফ Bangladesh Financial Intelligence Unit BFIU বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ
file pic

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে তাদের অ্যাকাউন্ট খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলের খিলপাড়ায়। অনেকের কাছে তিনি ‘পানি জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। নির্বাচনী হলফনামায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও নোয়াখালী নিজ এলাকায় বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে আসে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর এবং তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে আগামী ৩০ দিনের জন্য স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হলো। এ ছাড়া এসব ব্যক্তি ও তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি, হিসাব খোলার ফরম, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমার বাসায় কাজ করে গেছে পিয়ন, সে এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না। এটা বাস্তব কথা। কী করে বানাল এই টাকা। যখন আমি জেনেছি, তাকে বাদ দিয়ে কার্ড সিজ করে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা তো হয়। ধরার পর এগুলো চোখে আসে। তাছাড়া তো হয় না। যখনই ধরা পড়ে, তখনই আমরা ব্যবস্থা নেই।’ তবে প্রধানমন্ত্রী কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে দ্রুতই জানা যায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের যত সম্পদ

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তাঁর রয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও নিউমার্কেটে দুটি দোকান, মিরপুরে সাততলা ভবন ও গ্রামের বাড়িতে একতলা দালান। স্ত্রীর নামে আটতলা ভবন রয়েছে, যার দর দেখানো হয় ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মিরপুরে দুটি ফ্ল্যাট, দাম দেখানো হয় মাত্র ৪৪ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ২ হাজার ৩৬০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার দর উল্লেখ করা হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমির পরিমাণ সাড়ে ৪ একর। মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। স্ত্রীর অকৃষিজমি আছে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার। আছে আরও বহু সম্পদ।
তাঁর অস্থাবর সম্পদ হিসাবে হাতে ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ২ কোটি ৫২ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস আছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, এফডিআর ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার। স্ত্রীর ব্যাংক স্থিতি ২৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ও ডিপিএস ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এ রকম কোম্পানির শেয়ার আছে ৫৮ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকা।

জাহাঙ্গীরের সঞ্চয়পত্র আছে ৩ লাখ টাকার, স্ত্রীর নামে আছে আরও ৩ লাখ টাকার। স্ত্রীর একটি গাড়ি আছে, যার দাম হলফনামায় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৭৫ তোলা স্বর্ণের দর দেখানো হয় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর স্বর্ণ আছে ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকার। আসবাব ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে আছে ৯ লাখ টাকার। জাহাঙ্গীর একটি পিস্তল ব্যবহার করেন, যার দাম ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। অংশীদারি ফার্মে তাঁর মূলধন আছে ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। স্ত্রীর ব্যবসায় মূলধন আছে ৭৩ লাখ টাকার।

সব মিলিয়ে কৃষি খাতে তাঁর বছরে আয় ৪ লাখ টাকা, বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে আয় ১১ লাখ টাকা, ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং সঞ্চয়পত্রের আয় ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। চাকরি থেকে ভাতা দেখানো হয় বছরে ৬ লাখ টাকা এবং অন্য উৎস থেকে বছরে আয় আরও ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD