সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন




খুনের বিচার না হলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে: আসিফ নজরুল

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০২৪ ৫:২৯ pm
Asif Nazrul Writer Asif_nozrul professor of law at the University of Dhaka আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক
file pic

কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনার বিচার না হলে সরকারের পদত্যাগ চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

তিনি বলেছেন, “আজকে দাবি এসেছে সরকারের পদত্যাগের; খুনের বিচার না করতে পারলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।”

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এই সরকার করবে না; কারণ সরকার নিজেই খুনি। খুনি বাহিনী ও খুনি সংগঠনকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুনের বিচারকে অন্য খাতে নিয়ে বইয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের অনিরাপদে রেখে শিক্ষকরা শান্তিতে ঘরে বসে থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমাদের অস্তিত্বে আঘাত হানা হয়েছে। বাংলাদেশের বুকে গুলি করা হয়েছে। তরুণরা হচ্ছে বাংলাদেশের হৃদয়; এই হৃদয়কে আঘাত করা হবে, আমরা চুপচাপ মেনে নিব- এটা যেন সরকার না ভাবে।

“চোখের সামনে দেখলাম পুলিশের ইউনিফর্ম পরে গুলি করা হয়েছে, ভিডিও দেখলাম আবু সাঈদকে কীভাবে গুলি করা হয়েছে। যুবলীগ ছাত্রলীগের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। অথচ আমাদের ছাত্ররা নাকি মারা গেছে সন্ত্রাসীদের গুলিতে। বলা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছে।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান বলেন, “গত ৫৪ বছরে শাসনামলে মিথ্যার ঢিবি তৈরি করেছি, যেখানে উন্নয়ন চেতনার মিথ্যার খোলস দেওয়া থাকে। এগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলনের বিকাশ ঘটিয়েছিল, সেটা সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে।”

পপুলেশনস সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, “আজকে পুলিশ আমার শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছে। তাকে কথা বলতে দিচ্ছে না। এই বাংলাদেশ কি আমরা দেখতে চেয়েছি?

“আমরা মানবাধিকারের কথা বলি, উন্নয়নের কথা বলি- অথচ প্রতিনিয়ত আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। আমাদের সহকর্মীর উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। কেন আবু সাঈদের বুকে স্পষ্ট গুলি করে মারা হলো- অথচ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমার গণতন্ত্র-মানবাধিকার কোথায় গেল?”

ইন্টারন্যশনাল বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, “১৯৭১ সালে ঘরে ঘরে গিয়ে দরজায় ঠক ঠক করে জিজ্ঞেস করা হতো মুক্তি আছে কি না? আর এখন ঘরে ঘরে ঠক ঠক করে জিজ্ঞেস করা হয়, ছাত্র আছে কি না, শিক্ষক আছে কি না।

“আপনি একজনকে মারবেন ১০ জন দাঁড়াব। ১০ জনকে মারবেন হাজারজন দাঁড়িয়ে যাব। শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান, আপনাদের কোনো অধিকার নেই তাদের গুলি করার।”

নিপীড়নববিরোধী শিক্ষকদের সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো- হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আটক শিক্ষার্থীসহ অন্যদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, কারফিউ তুলে নিতে হবে, ব্লক রেইডের নামে গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।

সমাবেশ থেকে শিক্ষকরা শুক্রবার বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে ‘দ্রোহযাত্রা কর্মসূচি’ ঘোষণা করেছেন। তারা দ্রোহযাত্রা নিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাবেন। এতে অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আহ্বান জানানো হয়।

বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষকরা রাজু ভাস্কর্য থেকে মৌন মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে যান। সেখানে তারা শ্রদ্ধা নিবেদন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াসিমা ও বায়েজিদ ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশরেফা অদিতি হক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউপি) শিক্ষক ইমরুল আজাদ, নর্থ সাউথের শিক্ষক রিয়াসাত খান।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD