রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন




দাবি সেনা সদস্যদের পরিবারের

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ও তাপস জড়িত

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৪ ৮:১৭ pm
Pilkhana পিলখানা Pilkhana Tragedy Border Guard Bangladesh পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস বিডিআর বিদ্রোহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি বিডিআর Border Guards Bangladesh BGB Military force security বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষক বাহিনী বিজিবি bgb
file pic

২০০৯ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানার মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মেয়র ফজলে নূর তাপসসহ আরও অনেকে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহত সেনা সদস্যদের স্বজনরা।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় বিডিআর বিদ্রোহে হত্যাকাণ্ডে নিহত সব সেনা ও সিভিলিয়ানদের পরিবার সাত দফা দাবি জানান।

নিহতদের স্বজনরা জানান, বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় নিহত হওয়া ৫৭ সেনা ও ১৭ জন সাধারণ নাগরিকের হত্যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মেয়র ফজলে নূর তাপসসহ আরও অনেককে সরাসরি জড়িত। দেশে স্বৈরাচারী শাসকের পতন হওয়ার মাধ্যমে যে মুক্ত বাক-স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাঙালি। তেমনি শহীদ সেনাদের নামে ১৫ বছর হয়ে আসা অপপ্রচার বন্ধ ও সঠিক ইতিহাস প্রচার করুন।

সংবাদ সম্মেলনে বিডিআরের সাবেক ডিজি জেনারেল শাকিলের ছেলে রাকিন বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে একজন সিটিং প্রধানমন্ত্রী একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সেনা অফিসারদের হত্যা করেন। এ জন্যই আমরা শহীদ দিবস দাবি করছি। ১৫ বছর যেভাবে তদন্ত হয়েছে, তা আমরা মানি না। কারণ প্রধান হত্যাকারী (যিনি নির্দেশ দিয়েছেন) তিনি তখন গণভবনে। এ ঘটনায় যারা নির্দোষ, এখনও জেল খাটছেন, তাদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাই।’

মেজর মোসাদ্দেকের মেয়ে নাজিয়া বলেন, ‘আমাদের কষ্টের কথা যদি বলি, একই পরিস্থিতিতে এখনও যাচ্ছি। কষ্ট দূরে হয়ে যায়নি। এর পেছনে অনেক ঘটনা ছিল। আমরা তো আমাদের স্বজনদের হারিয়ে ফেলেছি। মানুষ জানুক এই হত্যাকাণ্ড কারা করেছে। কেন এত বছর পরও আমাদের মুভমেন্টে বাধা হয়।’

কর্নেল নাহিদের মেয়ে নাবিলা বলেন, ‘এটা আন্তর্জাতিক চক্রের কাজ। আন্তর্জাতিক শক্তির দ্বারাই কাজটি করা হয়েছে। আপনারা বের করবেন আসল কারণ। এটা বিদ্রোহ নয়, এটা হত্যাকাণ্ড, পরিষ্কার হত্যাকাণ্ড। আমার বাবা মারা যাননি। হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিছু অপপ্রচারের জন্য আমরা হেনস্তা হয়েছি। এত দিন ভয়ে কথা বলিনি, আজ নির্ভয়ে কথা বলছি।’

নিহত সেনা সদস্যদের স্বজনরা আরও বলেন, ১৫ বছর ধরে আমাদের একটাই দাবি, বিচার চাই। একটা স্বচ্ছ বিচার হোক। আমরা এ বিষয়ে আর লুকোচুরি চাই না। চাপ দিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করা হয়েছিল। বাধার মধ্যে ১৬ বছর পার করেছি।

পরিবারগুলোর সাত দাবি:

১. সত্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে আগে যেসব তদন্ত হয়েছে, সেসব তদন্তের প্রতিবেদন পাবলিক করতে হবে।

২. হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় মোতাবেক তিন বিচারক যে ইনকোয়ারি কমিশনের কথা বলেছেন অবিলম্বে সেই ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করতে হবে। এতে পর্দার আড়ালে রয়ে যাওয়া ষড়যন্ত্রকারীদের নাম বেরিয়ে আসবে।

৩. অফিসিয়াল গ্যাজেট করে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং গ্যাজেটে নিহতদের সবাইকে শহীদের মর্যাদা দিতে হবে।

৪. ২৫ ফেব্রুয়ারি শোক দিবসকে ঘিরে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে।

৫. পিলখানা ট্র্যাজেডিকে স্কুলের পাঠ্যবইয়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৬. এ ঘটনাকে ঘিরে যেসব সেনা কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৭. নির্দোষ কোনও বিডিআর জওয়ানকে যেন কোনোভাবেই সাজা না দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত এক সেনা কর্মকর্তার ছেলে সাকিব ও মেজর শাকিলের ছেলে রাকিন ছাড়াও অন্য নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরাও বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানাতে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের হাতে বাহিনীর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ ও ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD