একটা সময় উৎসব এবং উৎসবের বাইরে দেশের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সিনেমা ধুন্ধুমার ব্যবসা করতো। বছর জুড়ে মুক্তি পাওয়া তার ছবিগুলো লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে কমই। তবে গত কয়েক বছরে হলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেবলমাত্র বছরের দুই ঈদেই বড় সিনেমা মুক্তির একটা নিয়ম চালু হয়েছে। সেই নিয়মের বেড়াজালে আটকে ছিলেন শাকিবও। কারণ প্রযোজক, পরিচালক কিংবা শাকিব নিজেও চাইতেন না তার সিনেমা ঈদ ছাড়া মুক্তি পাক। তাই গত চার বছরে সেভাবেই শাকিবের ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে।
ঈদে ভালো ব্যবসাও করেছে ছবি। যার সবশেষ নজির ‘তুফান’। তবে সমালোচকদের মতে, শাকিব খানের সিনেমা ঈদের বাইরে এখন আর চলে না। অনেকে আবার এ নায়ককে চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন মাঝেমধ্যে ঈদে সিনেমা মুক্তি না দিয়ে দেখাতে। যদিও শাকিব এসব সমালোচনা কানে নেননি। তবে ‘তুফান’ এর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। বলেছিলেন, নিজেকে প্রমাণ করার আর কিছু নেই। শুরু থেকে প্রমাণ করেই এ পর্যন্ত এসেছি। এখন সময় শুধু কাজ করে যাওয়ার। তবে এবার ঠিকই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন ঢাকাই ছবির এ নায়ক।
ঈদের বাইরে দীর্ঘ সময় পর মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘দরদ’। ১৫ই নভেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে প্যান ইন্ডিয়ান এ ছবি। এতে তার নায়িকা বলিউডের সোনাল চৌহান। অনন্য মামুন পরিচালিত ঈদের বাইরের এ ছবিটি দিয়ে কি শাকিব সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিতে পারবেন? নাকি সমালোচকদের কথাই ফলে- সেটাই এখন দেখার বিষয়। এদিকে পরিচালক মামুন নানা ধরনের প্রচারণার কৌশল হাতে নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও তিনি প্রচারণায় তুমুল ব্যস্ত। ছবি মুক্তির আগ পর্যন্ত টানা চমকে পূর্ণ সব প্রচারণা চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সবমিলিয়ে ঈদের বাইরে শাকিব খান কতোটা সফল হন তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তার ভক্ত থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরাও। কারণ ছবিটি সফলতা পেলে ঈদের বাইরেও শাকিবসহ অন্য বড় ছবি মুক্তির একটা প্রচলন চালু হতে পারে। সেটা হলে সার্বিকভাবে চলচ্চিত্রের জন্য একটি ইতিবাচক ঘটনাই ঘটবে।