শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন




বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে ২০২৪ সালে পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটে ২৪ কোটি শিশুর: ইউনিসেফ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৫ ৭:৫৪ pm
unicef logo for every child UNICEF United Nations International Children's Emergency Fund humanitarian and developmental aid children worldwide ইউনিসেফ শিশু অধিকার UNFPA Bangladesh Ministry Women Children Affairs জাতিসংঘ শিশু তহবিল
file pic

গত বছর (২০২৪ সাল) চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে, বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়া জনিত সমস্যার কারণে বিশ্বে ২৪ কোটি ২০ লাখ শিশুর পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যতম সমস্যা ছিল অতিরিক্ত গরম। আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়াতে। ফলে এসব দেশে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্কুল বন্ধ এবং স্কুলে পাঠদানের সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ইউনিসেফের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার যে বিষয়গুলো স্কুলশিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে, তা হলো তাপপ্রবাহ। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল সতর্ক করে বলেন, চরম আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ‘অধিকতর ঝুঁকিতে’ আছে শিশুরা।

এক বিবৃতিতে ক্যাথেরিন বলেন, ‘শিশুদের শরীর বয়স্কদের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয় ও ধীরগতিতে ঠান্ডা হয়।’

ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যেসব শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড গরমে কোনো স্বস্তির ব্যবস্থা নেই, সেখানে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। আবার যদি স্কুলে আসা–যাওয়ার রাস্তা ডুবে যায় বা পানিতে স্কুল প্লাবিত হয়ে, তাতেও তারা ক্লাসে যেতে পারে না।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দশকের পর দশক জীবাশ্ম জ্বালানির অতিমাত্রায় ব্যবহার ও মানুষের নানা রকম কর্মকাণ্ড এই পৃথিবীকে উষ্ণ করে তুলেছে ও আবহাওয়ার রূপ বদলে দিয়েছে।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে গত বছর ২৪ কোটির বেশি স্কুলশিশুর পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়ার যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, সেটি একটি রক্ষণশীল অনুমান। কেননা, এ ক্ষেত্রে তথ্যপ্রাপ্তিতে ঘাটতি ছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশ, কলম্বিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনসে শুধু এপ্রিল মাসেই ১১ কোটি ৮০ লাখ শিশুসহ ওই বছর অন্তত ১৭ কোটি ১০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনসে শিশুদের হাইপারথার্মিয়ায় (শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা, যা জ্বর বা হিটস্ট্রোকের মতো অসুস্থতা কারণ হতে পারে) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বাইরে থাকা হাজারো স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়।

জলবায়ুসংশ্লিষ্ট কারণে শিশুদের পড়াশোনা সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। এর শিকার হয়েছে ১২ কোটি ৮০ লাখ শিশু। সবচেয়ে বেশি ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু ক্ষতির মুখে পড়ে ভারতে। কারণ ছিল তাপপ্রবাহ। বাংলাদেশে ক্ষতিতে পড়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ শিশু। কারণ ছিল একই।

ইউনিসেফের আশঙ্কা, চরম আবহাওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাবের শিকার হওয়ার বাইরেও কিছু শিশু, বিশেষ করে মেয়েশিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD