অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্কে দিন পার করছেন অনেক বাংলাদেশি। উপযুক্ত নথিপত্র নেই এমন অনেকেই আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন। স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটি থেকে অবৈধদের ভ্রমণ এবং বাইরে আড্ডা দেয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এদিকে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের অনেককেই সামরিক বিমানে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিযানের মধ্য দিয়ে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে যাচ্ছে। এর বাইরে নন বাংলাদেশিরাও। নথিপত্র বিহীন অভিবাসীদের ধরতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাড়াশি অভিযান শুরুর পর প্রতিটি মুহুর্ত আতঙ্কে কাটছে।
অবৈধ বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশই কাজের পর নগদ টাকায় বেতন নেন। বিশেষ করে যারা মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ছোটখাট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এসব কর্মস্থলে ইমিগ্রেশনের অভিযানের শঙ্কায় কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। সাড়াশি অভিযান চালানোর কথা রয়েছে স্কুল-গির্জা-হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে। তাই নথিপত্র নেই এমন প্রবাসীদের ভ্রমণ এমনকি বাইরে আড্ডা দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের।
অনেকেই বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের অফিসে ছোটাছুটি শুরু করেছেন, খুঁজছেন গ্রেপ্তার এড়ানোর উপায়। এমন অবস্থায় যারা আদালতের দারস্থ হয়েছেন, তাদের উপযুক্ত নথি সাথে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এনওয়াইপিডির প্রক্তন পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ উর রহমান বলেন, অবৈধ আর অপরাধের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে আরও হার্ডলাইনে যাবে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে সিয়াটলের বিচারক জন কফেনর। এতে দুই সপ্তাহ নির্বাহী আদেশ কার্যকর স্থগিত থাকবে। সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেয়া সবার নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসেই এ বিষয়ক নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন ট্রাম্প।