আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বুধবার (১১ জুন) জামিন পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রধান গোহর আলী খান। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমস
ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) ওইদিন ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির দণ্ড স্থগিত চেয়ে দায়ের করা আবেদনপত্রের শুনানি গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে আদালতের পূর্বনির্ধারিত শুনানি গত মাসে মুলতবি করা হয়েছিল ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে, যারা তাদের আইনি প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল।
৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন একাধিক মামলার কারণে। তবে তার দলীয় নেতা গোহর আলী খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘১১ জুন হবে খানের এবং তার স্ত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দিন।’
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা
গোহর আরও জানান, পিটিআই আগামী বাজেট ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে, যা নেতৃত্ব দেবেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান নিজেই, কারাগার থেকেই। তিনি বলেন, ‘দলীয় কৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৯ জুন আমরা এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করব।’
অপরদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা আলী আমিন গান্ডাপুর কিছুদনি আগে ঘোষণা দিয়েছেন, ঈদুল আজহার পর খানের মুক্তির দাবিতে একটি সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হবে।
ইমরান খান এরইমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে পিটিআই’র আন্দোলনের নেতৃত্ব তিনি জেল থেকেই দেবেন। তিনি পিএমএল-এন ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে (পিপিপি) অভিহিত করেছেন ‘ম্যান্ডেট চোর’ হিসেবে এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে ‘মহাকায় ভোট জালিয়াতি’ বলেও আখ্যা দেন।
বুশরা বিবিকে নিয়ে অভিযোগ
গোহর দাবি করেন, বুশরা বিবিকে বিনা অভিযোগে আটকে রাখা হয়েছে শুধু ইমরান খানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘খানের মুক্তির বিনিময়ে কোনো আপস হবে না।’ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের গুঞ্জনও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
মামলার পটভূমি
আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলার সূত্রপাত হয় ২০১৯ সালে, যখন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) পাকিস্তানি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মালিক রিয়াজের পরিবারের সঙ্গে ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই অর্থের উৎস হিসেবে বিদেশি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। পরে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নির্দেশে এই অর্থ পাকিস্তানে ফেরত না এনে বাহরিয়া টাউনের জরিমানার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য, বাহরিয়া টাউন করাচির মালির এলাকায় হাজার হাজার একর সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে শত শত একর জমি দান করে আল-কাদির ট্রাস্টকে, যার দুই ট্রাস্টি হলেন ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি।