শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন




দিনাজপুরে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা

দিনাজপুরে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা: বাগানে থোকায় থোকায় আনার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১১:০০ am
Punica granatum Lythraceae Punica বেদানা আনার ডালিম Pomegranate Anar-আনার
file pic

এক একটি গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় আনার। প্রথম দেখায় এটি নেপাল বা ভারতের কাশ্মীর মনে হলেও এটি বাংলাদেশের আনার বাগান। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে না হলেও দিনাজপুর সদর উপজেলার বেলবাড়ীতে গড়ে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ আনার বাগান। পরীক্ষামূলক চাষ করেই পেয়েছেন সফলতা। একটি বাগানের ১১শ গাছ থেকে এবার অন্তত ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকার আনার বিক্রির আশা করছেন তারা।

ভিটামিনসমৃদ্ধ আমদানিনির্ভর ফল আনার (বেদানা)। নেপাল, ভারত, চীন. দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কিছু দেশ থেকে প্রতিবছর শত শত টন ফল বাংলাদেশের চাহিদা মেটাতে আমদানি করা হয়। তবে এবারই প্রথম বৃহৎ আঙ্গিকে বাংলাদেশেই চাষ হচ্ছে আমদানিনির্ভর এই ফল। বাগানে চারা রোপণের চার বছর পর এবার ফল এসেছে গাছে গাছে। ইতোমধ্যে ফলে ফলে ভরে গেছে গোটা বাগান। একেকটি গাছে ফল ধরেছে ২০ থেকে ৬০টি। চলতি আগস্ট মাসের শেষ দিকেই এসব ফল বিক্রি করতে শুরু করবেন কৃষি উদ্যোক্তা বাগান মালিক।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার রানীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে মূল সড়কের পাশেই গ্রিন লিফ এগ্রো ফার্ম নামের বিশাল একটি আনার বাগানের দেখা মিলবে। মোহাম্মদ নাদিম ও মনিরুজ্জামান চৌধুরী-দুই বন্ধু ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন আনার বাগানটি। সাড়ে তিন একর জমির উপর আনারের গাছ রয়েছে এক হাজার ১০০টি। গত বছর আনার তেমন একটি না ধরলেও স্বাদ, ঘ্রাণ রঙ এবং আকার সবদিক থেকেই বিদেশি আনারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বলে দাবি বাগান মালিকের। তবে এবার প্রচুর পরিমাণে ধরেছে ফল। আনার চাষের ওপর ভারতের মুম্বাইয়ের একটি কৃষি খামারের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে দিনাজপুরে চার বছর আগে আনার বাগান করেন কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম ও তার বন্ধু মনিরুজ্জামান। প্রথম অবস্থায় অনেকেই নিরুৎসাহিত করলেও দেশে সর্ববৃহৎ আনারের বাগান গড়তে পেরে গর্বিত মোহাম্মদ নাদিম।

সরেজমিন বাগান পরিদর্শনে গেলে মোহাম্মদ নাদিম বলেন, আমি এবং আমার পার্টনার মনিরুজ্জামান চৌধুরী এখানে সাড়ে তিন একর জমির ওপর ১১শ আনার গাছ লাগাই। গত বছর কিছু ফল এসেছিল। কিন্তু এবার প্রচুর পরিমাণে ফল এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকার আনার বিক্রি করবেন তারা। তিনি বলেন, কোনো ধরনের রোগবালাই দেখা না দিলে একেকটি গাছ কমপক্ষে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। তিনি বলেন, যত দিন যাবে, এসব গাছ থেকে ততই বেশি ফল পাওয়া যাবে। প্রথমবারেই সফল হওয়ায় এই বাগান আরও সম্প্রসারণ করবেন বলে জানান বাগান মালিক। আগামীতে এই ফল উৎপাদন করে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবানের পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা কিছুটা হলেও সাশ্রয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনাজপুরে আনার চাষের সফলতার খবর জেনে প্রতিদিন এই আনার বাগানে ভিড় করছেন অনেক মানুষ। দিনাজপুরের এই বাগানে থোকায় থোকায় আনার ঝুলতে দেখে অনেকেই আনার চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। বিদেশি এই ফল দিনাজপুরের মাটিতেও ফলানো সম্ভব-এ দেখে অনেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন বাগান মালিকের কাছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাও এ আনার বাগান পরিদর্শন করেছেন।

বাগান মালিক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে এতবড় আনারের বাগান আর কোথাও নেই। স্থানীয় কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা আবু বোরহান জানান, বেশ ঝুঁকি নিয়ে বন্ধু মিলে এই আনার বাগানটি গড়ে তুলেছেন। কৃষি অফিস সাধ্যমতো তাদের বিভিন্ন সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, পরীক্ষামূলকভাবে দিনাজপুরের মাটিতে আনারের বাগান গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, দিনাজপুরের মাটিতে এই বিদেশি ফল চাষে সবরকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। যেসব বালাই বা রোগের সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবরকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আনার চাষ করে যেহেতু সফল হওয়া গেছে, সেহেতু দিনাজপুরের মাটিতে আনার চাষের বেশ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই বাগান দেখে অন্যান্য কৃষি উদ্যোক্তাও আনার চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD