সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন




১২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বদল, পাঁচটিতে বিক্ষোভ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৪:৫৮ pm
Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি
file pic

বিএনপি ১২ আসনে মনোনয়ন রদবদল করেছে। আরও কিছু আসনে দুয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন হতে পারে। কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে নামাতে পারলে ফল ঘরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঁচটি আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ করেছেন। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেললাইনে আগুন দেওয়া হয়। কুমিল্লার চান্দিনায় মহাসড়ক, যশোরের মনিরামপুর ও কিশোরগঞ্জে মিছিল করা হয়েছে। পটুয়াখালীর দশমিনায় গণপদত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আগেই বলা হয়েছিল, এটা সম্ভাব্য তালিকা। কোনো এলাকায় তেমন পরিবর্তন মনে করলে অবশ্যই সেটা করা হবে। আর বড় দল হিসেবে প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছে। দল যেখানে যাকে অধিক যোগ্য মনে করবে, তাকে চূড়ান্ত করবে।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম পর্যায়ে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। এক দিন পরই মাদারীপুর-১ আসনের ঘোষিত প্রার্থী কামাল জামাল মোল্লার নাম স্থগিত করা হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। সব মিলে ২৭২টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। এর বাইরে সম্প্রতি বাকি ২৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

এই ২৮ আসনের মধ্যে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম চারটি আসন এবং নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন পেয়েছে। এ ছাড়া দল বিলুপ্ত করে দুটি দল দুটি আসন, বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন তিন নেতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত আসনের মধ্যে বেশ কিছু আসনে প্রার্থী রদবদলে চমক সৃষ্টি করেছে বিএনপি। এর মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসন থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নেওয়া হয়েছে। আর চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। আবার চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। এর আগে এই আসনে বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মুখে এ পরিবর্তন আনা হয়।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি এতদিন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুকের জন্য নির্ধারিত ছিল। সম্প্রতি বিএনপির আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ায় এই আসনটি ফাঁকা রয়েছে। তবে আজকের মধ্যে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে বিএনপি।

পিরোজপুর-১ আসনটি জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেখানে জেলা বিএনপির নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, মোস্তফা জামাল শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় এখানে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাইফুল আলম নীরব। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই আসনে নির্বাচন করেছিলেন। তবে জোটের রাজনীতিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে এই আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।

দলের ভেতরের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রার্থীর শারীরিক অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। বুধবার রাতে সাবেক মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে একটি আসন জোটের শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছে। গত বুধবার দুপুরে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। এরপর রাতে যশোর-১ (শার্শা) ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। যশোর-৫ আসনে প্রাথমিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যশোর-৪ আসনে প্রথমে মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব। নতুন করে পেয়েছেন দলের অভয়নগর উপজেলা সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী।

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। নড়াইল-২ আসনে বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এনপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে এই আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

ফাঁকা আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত
বিএনপি ঘোষিত ২৭২ আসনের বাইরে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করলেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসনে সমমনা দল ও জোটকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নীলফামারী-৩ আসনে জলঢাকা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী, লালমনিরহাট-২ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি রোকনউদ্দিন আহমেদ বাবুল, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, পাবনা-১ আসনে বেড়া উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান সামসু, ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, ঝিনাইদহ-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। রাশেদ গতকাল গণঅধিকার থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ময়মনসিংহ-১০ আসনে বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজউদ্দিন, নরসিংদী-৩ জেলা বিএনপির নেতা মঞ্জুর এলাহী, নারায়ণগঞ্জ-৪ সমমনা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসেন কাসেমী, সিলেট-৫ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জুনায়েদ আল হাবিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। এর মধ্যে ড. রেদোয়ান সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সদ্য বিলুপ্ত বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব নির্বাচন করেন। তবে এবার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফউদ্দিন নিজানকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। এ কারণে বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে জেএসডি।

বাগেরহাট-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ শাখার মহাসচিব ও মতুয়া সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। অন্যদিকে বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ শাখার সভাপতি ও মতুয়া সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে।

আরও যেসব আসনে রদবদলের চাপে বিএনপি
ঢাকা-১৭ আসনে সমমনা শরিক দল বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ঘোষণার আগেই এখানে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারেন। পার্থকে ভোলা-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

চট্টগ্রাম-১২ আসনে অভ্যুত্থানের পর এস আলম গ্রুপের গাড়িকাণ্ডে দল থেকে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত নেতা এনামুল হককে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের চাপ রয়েছে। এই আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সদস্য ও আওয়ামী আমলে গুমের শিকার সৈয়দ সাদাত আহমেদ স্বতন্ত্র নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এখানে রদবদল হতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সাবেক এমপি মুশফিকুর রহমানকে সম্ভাব্য মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। নব্বই বছরের ঊর্ধ্বে একজন বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এই আসনেও পরিবর্তন আসতে পারে। সেখানে কবির আহমেদ ভূঁইয়ার মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে সূত্র জানিয়েছে।

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রয়াত নেতা ফজলুর রহমান পটলের ছোট মেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা উপজেলা) আসনেও রদবদলের চিন্তা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে চাঁদপুর-২ (মতলব) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিনসহ পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। এ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হয়ে ডা. মাহবুবের রহমান শামীম পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলা রয়েছে। এ আসনেও প্রার্থী বদল হয়ে কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর করিম চৌধুরী আবেদ পেতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD