বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন




ঢাকা ও আশপাশে সক্রিয় অর্ধশত সিন্ডিকেট

ঢাকা ও আশপাশে সক্রিয় অর্ধশত সিন্ডিকেট: ঈদ ঘিরে বেপরোয়া জাল নোটের কারবারিরা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৫ am
নতুন নোট Per capita income মাথাপিছু আয় Reserves Reserve রিজার্ভ remittance রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ডলার dollar Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা
file pic

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে। কেনাকাটায় জমে উঠেছে বাজার। এই সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাল নোটের কারবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় রয়েছে অর্ধশতাধিক জাল নোট সিন্ডিকেট। চক্রের এবারের লক্ষ্য-শতকোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া। রাজধানীর অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে গ্রামের হাটবাজার-সবখানেই জাল নোট চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযানে ধরা পড়েছে জাল টাকার কারিগর ও কারবারিরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাল নোটের কারবার এখন আর অন্ধকার গলিতে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই চলছে রমরমা বিপণন। ফেসবুক ও ইউটিউবে খোলা হয়েছে শত শত গ্রুপ ও চ্যানেল। সেখানে দেওয়া হচ্ছে ‘ধামাকা অফার’। চটকদার অফার দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করছে সংঘবদ্ধ চক্রটি। বিশ্বাস অর্জনে দেখানো হচ্ছে জাল নোট তৈরির ভিডিও। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গৃহস্থালি পণ্যের আড়ালে ক্রেতার হাতে পৌঁছে যাচ্ছে এই ‘নকল টাকা’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে আসল নোটের বান্ডিলের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ জাল নোট। এক লাখ টাকার জাল নোট মিলছে মাত্র ১৫ হাজার টাকায়। আর ‘এ’ গ্রেডের এক লাখ জাল টাকা বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সব ধরনের নোট নকল হচ্ছে। কারবারিদের ভাষায়, ‘এ’ গ্রেডের নোট ব্যাংক ছাড়া অন্য সবখানেই চালানো যায়। এসব নোট এতটাই নিখুঁত যে, সহজে আসল-নকল বোঝার কোনো উপায় থাকে না।

সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার লোভে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি অংশও জড়িয়ে পড়ছে এই কারবারে। সম্প্রতি জাল টাকা তৈরির সময় র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়েছে নাইমুল ইসলাম ইশান ও কেফায়েত উল্লাহ নামে দুই মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা ল্যাপটপ, লেজার প্রিন্টার ও বিশেষ ডাইস ব্যবহার করে গ্রাফিক্স সফটওয়্যারের সাহায্যে নোটের জলছাপ ও নিরাপত্তা সুতা পর্যন্ত হুবহু নকল করছিল। তাদের তৈরি ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট খালি চোখে চেনা প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জাল নোট কারবারিদের ধরতে সারা বছরই অভিযান চলে। অনেক সময় তারা গ্রেফতারও হয়। কিন্তু আইনি ফাঁকফোকরে অল্পদিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আবার পুরোনো কারবারে ফিরে যায়।

আরও জানা গেছে, রাজধানী ও আশপাশে সক্রিয় রয়েছে অর্ধশতাধিক জাল নোটের কারিগর। প্রত্যেকের অধীনে রয়েছে পাঁচ থেকে ছয়জন করে ‘পুশার’ বা বাজারজাতকারী। কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, কদমতলী, ডেমরা, উত্তরা, তুরাগ, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে এই চক্রগুলো। এরা কিছুদিন পরপরই আস্তানা বদল করে জাল নোট তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যায়। কারিগরদের মধ্যে ছগির মাস্টার, লিয়াকত হোসেন জাকির, বাবুল, সাইফুল, পাখি, আমিন, হুমায়ুন কবির, জামাল দুরুজ্জামান, সাখাওয়াত, নাজমুল, সুজন, তাইজুল ইসলাম লিটন, শামীম, ইমরান, রহিম শেখ, রিয়াজ, সাইফুল, কামাল, কাওসার, মাহবুব মোল্লা, আলাউদ্দীন, বাবু, রহিম বাদশাসহ অন্তত ৫০ জন সক্রিয় রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই একাধিকবার করে গ্রেফতার হয়েছে। জামিনে বের হয়েই আস্তানা বদল করে আবার ফিরেছে পুরোনো পেশায়।

জাল টাকার কারবারিদের একটি সূত্র জানায়, ঈদের কেনাকাটার ভিড়ই তাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ। বিশেষ করে ইফতার বাজারের তাড়াহুড়াকে কাজে লাগিয়ে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ছোট ব্যবসায়ীরা। মিরপুরের ইফতার বিক্রেতা আল-আমিন জানান, রমজানের এই পর্যন্ত তাকে দুটি ৫শ টাকার নোট এবং একটি ১০০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে গেছে প্রতারকরা। চকবাজারের ইফতার বিক্রেতা মামুন বলেন, ভিড়ের মধ্যে খেয়াল করে টাকা নেওয়া যায় না। এই সুযোগে ইফতারি কিনে জাল নোট দিয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, আমাদের কাছে তো এমন কোনো মেশিন নেই যা দিয়ে যাচাই করব।

কাওরান বাজারের ডাব বিক্রেতা আব্দুল জলিল বলেন, ৫শ টাকার চকচকে নোট দেখলে ভয় লাগে। এমন সব লোক জাল টাকা দিয়ে যায়, তাদের সন্দেহ করারও সুযোগ থাকে না। অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, উৎসব এলেই জাল নোটের প্রচলন বাড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা। এই অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে সাজার হার বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, জাল নোট কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে এসব বিজ্ঞাপনদাতাদের শনাক্ত করার কাজ করছে।

র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক সনদ বড়ুয়া জানান, ঈদ সামনে রেখে তারা জাল নোট কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। জাল নোট কারবারিদের গ্রেফতার করতে নজর রাখা হচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমেও। তার ভাষায়, আমাদের বার্তা পরিষ্কার, জাল নোট কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জাল নোট প্রস্তুতকারক এবং কারবারিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জনগণকে জাল নোট সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং সন্দেহজনক কোনো লেনদেন বা ব্যক্তির তথ্য নিকটস্থ থানা পুলিশকে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD