রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে তলিয়ে গেছে। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় পড়া বাসটি সৌহার্দ্য পরিবহনের। সেটি কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসে। এতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন সৌহার্দ্য পরিবহনের রাজবাড়ীর কাউন্টারের ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাসটির চালক ও হেলপারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।’ ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। বাসটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৭ জন শুরুতেই বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
এ পর্যন্ত উদ্ধার সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অনেকে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় পদ্মায় পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়ে সেখানে নদীর গভীরতা অনেক বেশি। ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাসটি উদ্ধার করা যায়নি।
বাসের যাত্রীদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে ব্যস্ত থাকায় বিআইডব্লিউটিসি, গোয়ালন্দ ঘাট থানা, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি জানান, আজ বিকেলে ঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে উদ্ধার কাজের জন্য ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা পৌঁছান।
তিনি আরও জানান, বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যান্যদের উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। উদ্ধারে যোগ দিতে ঢাকা এবং ফরিদপুর থেকে আরও দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।