শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন




বন্ধ শিল্প চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ঋণ সুদ ৭ শতাংশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ ১২:৫৯ pm
Central Bank কেন্দ্রীয় ব্যাংক Bangladesh Bank bb বাংলাদেশ ব্যাংক বিবি
file pic

বন্ধ শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। এখান থেকে ঋণখেলাপি, অর্থপাচারে জড়িত ও জাল-জালিয়াতিতে সম্পৃক্তদের ঋণ দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের আওতায় বড় শিল্প ও সেবা খাতের এ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলো ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। কম সুদের এ তহবিলের ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে সুদহার কমাতে সহায়ক ভূমি রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালুসহ বিভিন্ন খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি চালু করতে একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। স্কিমের আওতায় ঋণের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা কোম্পানি ও ব্যাংক পাবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

মূলত ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাক্‌-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়ন পাবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।

কারা ঋণ পাবে
নীতিমালায় বলা হয়েছে, তহবিলের প্রধান লক্ষ্য বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা, যারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও শুধু চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না। এই সহায়তার মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ যে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার চালু হতে সক্ষম, তারা এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ পাবে। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সচল করার উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করে বা ইজারা নেয়, তবে তারাও এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) অনুযায়ী খেলাপি হওয়া যাবে না এবং ইতিপূর্বে অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকা চলবে না।

ঋণের ব্যবহার
একটি একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, যা ব্যবহারের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের জন্য ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকবে, অর্থাৎ প্রথম ৬ মাস পর থেকে সুদের কিস্তি আদায় শুরু হবে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি তাঁদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার হিসাবে দিতে হবে। কোনোভাবেই নগদ লেনদেন করা যাবে না। এই ঋণ দিয়ে আগের কোনো ঋণের দায় সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না।

আদায় ও তদারকি ব্যবস্থা কি হবে
নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ হবে। ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও যেকোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করতে পারবে।

গ্রাহকের সব ব্যবসায়িক আয়-ব্যয় একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক। নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে বড় অবদান রাখা গ্রাহক ও ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD