শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন




রূপপুর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

দায়ীদের জবাবদিহি হওয়া জরুরি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:২০ am
পরমাণু RNPP বিদ্যুৎ Rosatom Pabna Ruppur Rooppur Nuclear Power Plant PROJECT পাবনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিউক্লিয়ার ইউরেনিয়াম রোসাটম
file pic

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেন অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের (ফাপাড) বিশেষ নিরীক্ষা এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ৯ অর্থবছরে প্রকল্পটিতে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হওয়া কোনো সাধারণ অসংগতি নয়-এটি সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের এক ভয়াবহ চিত্র।

ব্যয় করা প্রতি তিন টাকার মধ্যে প্রায় এক টাকার হিসাব নিয়ে নিরীক্ষকদের আপত্তি তোলা প্রমাণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কতটা স্বচ্ছতার অভাব ছিল। অতীতে এ প্রকল্পের ‘বালিশকাণ্ড’ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অডিট প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে, সেই বালিশকাণ্ড ছিল একটি বিরাট অনিয়মের হিমশৈলের চূড়া মাত্র। এ প্রকল্পে ২৩০টি অডিট আপত্তি উঠেছে, যার মধ্যে ১২০টিই রাশিয়ান কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্প ঘিরে। অনিয়মের একটি উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায় গ্রিন সিটির ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর ক্রয়ের বিষয়টি। এসব সরঞ্জামের সরকারি মূল্য ছিল ২৭ কোটি টাকা; কিন্তু বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ ঘটনায় স্পষ্ট বোঝা যায় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের আড়ালে কীভাবে অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।

দুর্নীতির পাশাপাশি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু তো দূরের কথা, প্রকল্প দপ্তরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কোনো হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা বা অসমাপ্ত কাজের তালিকা পর্যন্ত নেই। চুক্তির বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ২০১২ সালের পর আর কোনো বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়নি। মূলত প্রকল্প তদারকিতে মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির দুর্বলতা এবং সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) পরিপালনে ব্যর্থতার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎকালীন কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে যে ‘যোগসাজশের দুর্নীতি’ গড়ে উঠেছিল, তা থেকে মুক্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কেবল আর্থিক ক্ষতিই বাড়ায় না, বরং এটি দেশের সার্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আমরা মনে করি, অনিয়মগুলো স্রেফ ‘ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এ মেগা প্রকল্পের প্রতিটি টাকার হিসাব নিশ্চিত করতে চিহ্নিত অনিয়মগুলোর অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকারি অর্থ তছরুপের সঙ্গে যুক্ত তৎকালীন ও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে প্রকল্পটিকে দ্রুত নতুন কর্মপরিকল্পনার আওতায় এনে অবশিষ্ট কাজের প্রতিটি ধাপে কঠোর সুশাসন ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। জাতীয় স্বার্থে রূপপুর প্রকল্পকে অস্পষ্টতা ও দুর্নীতির পথ থেকে ফিরিয়ে এনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই হবে।

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD