হজ হলো আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে বড় সুযোগ — আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার মধ্য দিয়ে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ। হজ সম্পাদন করার পর সেই কল্যাণ ও পুণ্য ধরে রাখা নির্ভর করে হাজীর আচরণ ও জীবনধারার ওপর।
হজ পরবর্তী জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় রাখতে হলে কিছু বিষয় গুরুত্বের সাথে মেনে চলতে হবে। যেমন-
▪️(ক) অশ্লীলতা ও পাপ পরিহার –
হজের মাধ্যমে হাজী যেহেতু নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এসেছে, তার উচিত অতীতের গুনাহের অভ্যাস, পাপে পুনরায় জড়িয়ে নিজেকে কলুষিত না করা।
▪️(খ) আল্লাহর জিকির ও স্মরণ-
হজের মতো হজ-পরবর্তী জীবনেও আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ ও শুকরিয়া প্রকাশ করাই আল্লাহর হক। (সুরা বাকারা: ২০০)
▪️(গ) প্রদর্শনেচ্ছা ও আত্মপ্রচার পরিহার-
হাজীর উচিত আত্মপ্রচার বা গরিমা প্রকাশে লিপ্ত না হওয়া। কারণ, হজ হলো আল্লাহর জন্য সম্পূর্ণ উৎসর্গিত একটা ইবাদত, যা বিনয় ও আত্মশুদ্ধির প্রকাশ।
▪️(ঘ) আখিরাতমুখিতা-
হজ কবুল হয়েছে কিনা, তা প্রকাশিত হয় হাজির আচরণে। দুনিয়ার মোহ পরিত্যাগ করে আল্লাহর দিকে এবং আখিরাতের দিকে অগ্রসর হওয়ার মধ্যেই এর আলামত প্রকাশ পায়।
▪️(ঙ) জীবনধারায় পরিবর্তন-
হাজীর উচিত গুনাহগার ও অসৎ বন্ধু পরিত্যাগ করে ভালো ও আল্লাহর অনুগত বন্ধু গ্রহণ করা। গানবাজনা, অনর্থক আড্ডা ছেড়ে আল্লাহর স্মরণ ও ধর্মচর্চায় সময় ব্যয় করা।
সংক্ষেপে বললে — হজ আল্লাহর অনুগ্রহে আত্মবিশুদ্ধির সুযোগ, যা হজ-পরবর্তী জীবনেও ধরে রাখা চাই। আল্লাহর পথে চলাই হজের প্রকৃত কল্যাণ ও সুন্দর পরিণতি।
IFM Desk