শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন




এডিপি বাস্তবায়ন ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ১:১৩ pm
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি উন্নয়ন প্রকল্প Development Project উন্নয়ন Annual Development Plan adp রোড সড়ক মহাসড়ক যানজট রাস্তা বাস গাড়ি সড়ক road bus gridlock Study in India comp
file pic

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন নেমে এসেছে ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এ সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। ফলে অর্থবছর শেষ হতে চললেও অর্ধেক অর্থও খরচ করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৩৫৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলও রয়েছে। জুলাই-মে সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৬৩ কোটি টাকার কিছু বেশি।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এবার ব্যয় কমেছে প্রায় ১০ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তার আগের ২০২২-২৩ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যয় ছিল যথাক্রমে এক লাখ ৪৬ হাজার ২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ও এক লাখ ৩৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

আইএমইডির হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় দশকে জুলাই-মে সময়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার সেই হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের নিচে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অগ্রগতি। এমনকি করোনাকালে লম্বা সময় লকডাউনে থাকার বছরও এর চেয়ে বেশি হারে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাস্তবায়ন চিত্রও হতাশাজনক। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, যার বাস্তবায়ন হার মাত্র ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়া সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন হারে আরো পিছিয়ে আছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৪২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৪৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতির কারণে মন্ত্রণালয়টির বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৮২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৭৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ৬৮ দশমিক ৪১ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ক্রয়প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ে জটিলতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বিপুল বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক সংস্থা নির্ধারিত সময়ে অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।

তাদের মতে, এডিপি বাস্তবায়নের নিম্ন হার শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ধীর করে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ ছাড় ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় দক্ষতা এবং জবাবদিহি বাড়াতে হবে।

অর্থবছরের শেষ মাসে ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সামগ্রিক বাস্তবায়ন হার খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে টানা কয়েক বছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বলতার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD