রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকে চায়ের দোকানে ৭ আগস্ট বিকেলে আড্ডা দিচ্ছিলেন বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। হঠাৎ প্রাইভেটকারে এসে কয়েক দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনিসহ দুজন আহত হন। এ ঘটনায় কেউ মারা না গেলেও দুই সপ্তাহ আগে ২৪ জুলাই রাতে মিরপুরের কাফরুলে আরেকটি হামলায় একজন মারা যান। সেদিন দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন ইউসুফ বেপারী নামে এক যুবদল কর্মী। গুলিবিদ্ধ হন আরও দুজন।
শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়; চলতি বছরের সাত মাস ১৯ দিনে রাজধানীতে অন্তত ১৩টি গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ৯ জন আহত হন। একই সময়ে সারাদেশে আরও ১১০টি গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৩৭টি ঘটে খুলনায়। সর্বশেষ গতকাল বুধবার খুলনার লবণচরায় পৃথক ঘটনায় দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। খুলনার পর সবচেয়ে বেশি গুলি হয়েছে চট্টগ্রামে, যা সংখ্যায় ২৮টি। তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকা।
সব মিলিয়ে ১২৩টি গুলির ঘটনার মধ্যে ৫৫টির কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছে সমকাল। এক-পঞ্চমাংশের বেশি, অর্থাৎ ১২টি ঘটনা ছিল আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে আধিপত্য বিস্তার বা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে আটটি গুলির ঘটনা ঘটে। বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ বা বালু তোলা নিয়ে বিরোধে ঘটে আরও চারটি ঘটনা, যা মূলত আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গেই সম্পর্কিত। এর মধ্যে গত ২২ মার্চ দুর্বৃত্তরা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সফরভাটা এলাকায় বিএনপি নেতা ওসমান গনির বাড়িতে ঢুকে গুলি ছুড়লে তিনি ও তাঁর মা গুলিবিদ্ধ হন। নদী থেকে বালু তোলার বিরোধিতার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় এই হামলা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার জেরে ১১টি গুলির ঘটনা ঘটে। চাঁদার দাবিতে বা চাঁদা না পেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সাতটি গুলির ঘটনা ঘটে।
অপরাধী চক্রের নিজেদের মধ্যকার বিরোধে চারটি, ছিনতাই-ডাকাতির সময় আটটি, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকে তিনটি, মাদক ব্যবসা ও সেবন-সংক্রান্ত বিরোধে দুটি এবং অবৈধ হরিণ শিকারের সময় একটি গুলির ঘটনা ঘটেছে। বাকি সাতটি ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। এর মধ্যে কয়েকটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা হতাহত হলেও সেগুলো রাজনৈতিক বিরোধ– এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ ২১ জেলায় গুলির ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৯ জনের। আহত হয়েছেন ১৪০ জন। এর মধ্যে খুলনায় ১৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত, চট্টগ্রামে নিহত ১৩ ও আহত ৩৭ এবং ঢাকায় ছয়জন নিহত ও ৯ জন আহত হন। এ ছাড়া নরসিংদীতে চারটি গুলির ঘটনায় ছয়জন, রাজশাহীতে পাঁচ ঘটনায় চারজন, কক্সবাজারে পাঁচ ঘটনায় চারজন, পাবনায় তিন ঘটনায় তিনজন, নাটোরে দুই ঘটনায় দুজন, যশোরে দুটি ঘটনায় দুজন এবং ফরিদপুরে দুটি ঘটনায় একজন নিহত হন। খাগড়াছড়ি, বাগেরহাট ও সিলেটে একটি করে গুলির ঘটনায় একজন করে নিহত হয়েছেন। এই ১০ জেলায় গুলিতে আহত হয়েছেন ৩৯ জন। এর বাইরে নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা, বগুড়া ও কুমিল্লায় পৃথক গুলির ঘটনায় ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিককালে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বেপরোয়া ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। অপরাধী চক্রগুলো নানা উৎস থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মজুত গড়েছে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। ওই সময় সীমান্তের চোরাপথে ঢুকে পড়ে প্রচুর অস্ত্র। সেসব অস্ত্রসহ আগে থেকেই সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার হতে দেখা যায়। এমনকি গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া অনেক অস্ত্রও অপরাধীদের হাতে চলে যায়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় বিভিন্ন ধরনের পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে এক হাজার ৩১১টি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ তুচ্ছ বিরোধের ঘটনায়ও অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গুলির ঘটনায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। হত্যা, ছিনতাই কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধ– যে ক্ষেত্রেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে; চলছে অভিযান। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই হাজার ৮০২টি গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১০১টি পিস্তল, ৩৫টি শুটারগান, ৩৮টি এলজি, ১৯টি রিভলবার, ৯২টি বন্দুক, ১৫টি পাইপগান, সাতটি শটগান, তিনটি রাইফেল, দুটি এসএমজি, ১২টি এয়ারগান ও একটি পেনগান। একই সময়ে অভিযানে ১০৩টি ম্যাগাজিন, ৪৬টি ককটেল, সোয়া দুই কেজি গানপাউডার, ৬৩৮টি দেশীয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বোমাও উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশে ২৫০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয় এবং অন্তত ৮০ জন মারা যায় বলে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
আধিপত্যের লড়াইয়ে গুলি
গুলির ঘটনাগুলোর একটি বড় অংশের সঙ্গে স্থানীয় আধিপত্যের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কোথাও এলাকা নিয়ন্ত্রণ, কোথাও দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ, আবার কোথাও নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। নরসিংদীর রায়পুরায় চলতি বছরে অন্তত তিনটি গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জুন সকালে উপজেলার হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় সংঘর্ষে পাঁচজনের প্রাণ যায়। তাদের তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। একই উপজেলায় ৫ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ বছরের শিশু মোস্তাকিম নিহত হয়। সর্বশেষ ২ আগস্ট সওদাগরকান্দি এলাকায় সংঘর্ষে মোমেন মিয়া নামে এক কৃষক নিহত হন।
রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, তিনটি ঘটনাই ঘটেছে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে। রায়পুরার একটি বড় অংশই চর এলাকা। এখানকার মানুষ তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষে জড়ায়। তবে বর্তমানে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানো ও প্রদর্শনের চেষ্টা করায় এসব ঘটনা বেশি ঘটছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই এলাকার প্রচুর মানুষ বিদেশে থাকেন। অবাক করা বিষয় হলো, মারামারির সময় তারা বিদেশ থেকে নিজেদের পক্ষের লোকজনকে টাকা পাঠান। খরচ যতই হোক, তাঁর পক্ষ যেন পরাজিত না হয়!
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে চলতি মাসে নরসিংদীর পলাশে গুলিতে আরেকজন প্রাণ হারান। ১ আগস্ট রাতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহীম মাসুম। ১০ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পাবনায় পদ্মার চরেও আধিপত্যের বিরোধে গুলি চলে। ২৬ জুনের ওই ঘটনায় মঞ্জু শেখ নামে একজন নিহত হন। নাটোরের লালপুরে ৯ জুন আজিজুল হক ঝড়ুর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়। এসব ঘটনায় আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে।
৮ জুন রাজশাহীর মতিহারের মৌলভী বুধপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে র্যাব।
খুলনায় সবচেয়ে বেশি গুলির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি আমরা। ব্যক্তিগত বিরোধ, আধিপত্য বিস্তারসহ যেসব কারণে গুলির ঘটনা ঘটছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে এখন পরিস্থিতি অনেকটা ভালো।’
ব্যবসায়িক বিরোধেও খুনোখুনি
ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্বও গুলির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ৭ জানুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহত হন। তদন্তের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, কারওয়ান বাজারের ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়।
৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। একই মাসের ২৮ তারিখে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বলেন, এ ঘটনার কিছুদিন আগে বছিলার পশুর হাটের ইজারা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের কথা জানিয়েছিলেন টিটন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পশ্চিম সরল এলাকায় ৩১ জুলাই লবণমাঠ ও মাছের ঘের দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন জিল্লুর রহমান নামে যুবক।
চাঁদার দাবিতে গুলি
চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত ঘটনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে সাতটি গুলির ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট চট্টগ্রামের মুরাদপুরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে গুলি ছোড়া হয়। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক এমপি মুজিবুর রহমানের চট্টগ্রামের চান্দনপুরার বাসায় চাঁদার দাবিতে গুলি করা হয়। একই দাবিতে ২ জানুয়ারিও ওই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল। গত ১৯ মে চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর মতিঝিলে পশুর হাটের ইজারাদারের অফিসে গুলি চালানো হয়।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর বাড্ডায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনে গুলি ছোড়া হয়। সে সময় বাড্ডা থানার ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমীন জানিয়েছিলেন, চাঁদার দাবিতে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলা
রাজশাহীর বাঘায় ৩ জানুয়ারি বাড়িতে ঢুকে সোহেল রানা নামে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, আগের একটি হত্যাকাণ্ডের জের ধরে ওই হামলা চালানো হয়। রাজশাহীর খোঁজাপুরে ১৪ ফেব্রুয়ারি নামাজে যাওয়ার পথে গোলাম মোস্তফাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ক্ষেত্রেও আগের বিরোধের জের ধরে হত্যার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। বাগেরহাটের চিতলমারীতে আমির হামজা এবং খুলনার তেরখাদায় নূর আলম হত্যার ঘটনায়ও স্থানীয় বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যক্তিগত বিরোধেও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। এর থেকে বোঝা যায়, বিপুল অবৈধ অস্ত্র অপরাধী ও অপরাধপ্রবণ মানুষের হাতে রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। সেগুলোও অপরাধীদের কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মত বা ইচ্ছার বাধা হয়ে দাঁড়ালেই গুলির ঘটনা ঘটছে।’
তিনি বলেন, অভিযোগগুলো আগের মতোই আছে, শুধু মানুষগুলো বদলে গেছে। অপরাধ থেমে নেই, শুধু নতুন মানুষ যুক্ত হয়েছে। কিছু মানুষ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বা গুলি করে অন্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। আইনি, রাজনৈতিক বা সামাজিক তেমন কোনো বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না বলে তারা বেপরোয়া। এমন পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হতে হবে। অপরাধীদের সামনে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যে, অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সমকাল