সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন




সংসদ ভবনে বৃষ্টির পানি

ঝুঁকিতে ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৪১ am
JS Bangladesh National Parliament Jatiya Sangsad Bhaban House জাতীয় সংসদ ভবন পার্লামেন্ট
file pic

সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে। মূল ভবন ছাড়াও সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এবং কমপ্লেক্সের আওতাভুক্ত ভিআইপি বাংলো, মন্ত্রী হোস্টেল, পুরাতন সংসদ-সদস্যদের হোস্টেল ও সচিব হোস্টেলের চিত্রও একই।

দীর্ঘদিন ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ছাদ বেয়ে পড়া এই পানিতে নষ্ট হতে চলেছে মেইন মেকানিক্যাল প্ল্যান্টের (এমএমপি) প্রায় ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসব যন্ত্রপাতির ওপর অস্থায়ী টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। এতে যে কোনো সময় শর্টসার্কিট হয়ে পুরো কমপ্লেক্সের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এদিকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিও রয়েছে। সংসদ ভবনের প্রবেশপথগুলোর মধ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বকুলতলা গেট সামান্য বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচেই মেইন মেকানিক্যাল প্ল্যান্টের (এমএমপি) অবস্থান। এখানে সংসদ ভবনের কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জিআইএস প্যানেল, ছয়টি জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনসহ সেন্ট্রাল স্টোর রুম রয়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি পড়ে এমএমপি রুম প্লাবিত হয়। এখানে প্রায় ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি রয়েছে। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় যন্ত্রাংশগুলো শর্টসার্কিট হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ প্লাজায় ছাদের নিচে প্রতিটি যন্ত্রের ওপরে অস্থায়ীভাবে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। সংসদ ভবনে পানি পড়া রোধে গ্লাস ব্রিকসের জয়েন্টগুলো ঠিক করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া বিভিন্ন ভবনের ছাদ পানি প্রতিরোধী করা হচ্ছে। অবশ্য এই সাময়িক ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে খ্যাতনামা স্থপতি লুই আই কানের নকশায় তৈরি হওয়া জাতীয় সংসদ ভবন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ ভবনের সব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি প্রথম সংসদের নজরে আনেন সরকারি দলের হুইপ জিকে গউছ। তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে বালতি দিয়ে রাখা হয়েছে। কারণ ছাদ চুইয়ে অনবরত বৃষ্টির পানি ভেতরে পড়ে। এই অধিবেশনে আমরা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছি। সেখানে মসজিদসহ ভেতরের এই করুণ দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমরাও জেনেছি সংসদের ছাদ থেকে পানি পড়ে। তবে কষ্টের কথা কাকে বলব, আমি আমার নিজের ঘরে ঘুমাতে গেলে ছাদের ওখানে বালতি দিয়ে রাখি, এরপরই চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর ডেপুটি স্পিকার সংসদে উপস্থিত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন মন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং খুব শিগগির এর প্রতিকার হবে। জানা গেছে, সংসদ ভবনের যেসব জায়গা দিয়ে পানি পড়ছে, সেগুলো মেরামতের কার্যক্রম শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। তবে তা বেশ ধীর গতিতে হচ্ছে, এ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD