সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন




জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় পরিকল্পনা সরকারের: খসরু

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৪৫ pm
Khosru Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিAmir Khasru Mahmud Chowdhury আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী Amir Khasru Mahmud Chowdhury আমির খসরু
file pic

গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন, তিন থেকে চারটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিল গঠন এবং ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের পরিকল্পনা করছে সরকার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফিকির আয়োজিত ‘টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাংলাদেশে বিনিয়োগের চালিকাশক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার নিরলস কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারে সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধানেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা
গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব টার্মিনাল স্থাপনে কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছাকাছি গভীর পানির একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ২০ মিটার গভীরতায় বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খালাসের সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি জ্বালানি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজস্ব প্রশাসন ও ব্যাংক খাতে সংস্কার
অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে রাজস্ব প্রশাসন পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতি প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমাতে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।

হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিল
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিল খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড খাতে বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে। এরপর অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং একপর্যায়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের প্রশাসক ফজলুল হক।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফিকির প্রতিনিধিরা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সভায় অংশ নেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD