ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে সফিপুর, রতনপুর ও আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কের দিকে আসতে থাকেন।
শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবির সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।
তিনি বলেন, রোববার থেকে গাজীপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
শিল্প পুলিশ সুপার আরও বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর ও কালিয়াকৈরসহ আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে বিজিবি।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ ঘটনায় বেশকিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার নিট এশিয়া ও আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখনও মাঠে আছে।
কর্মবিরতি পালন করা তিনটি কারখানা হলো নিউ এইজ, আল মুসলিম ও ট্রাউজার লাইন।
শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা করছে। বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কারখানার কাজ বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে রোববার গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ মোতায়েন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য এসব গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি জানায়, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর এলাকা, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকা, নাওজোড় এলাকা এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।