রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন




ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য ৮ জোন, থাকবে আলাদা রং

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৪৬ pm
Electric Three wheelers vehicle wheeler tricycles tricycle motorcycles motorcycle tiger সিএনজি থ্রি হুইলার বাঘ ভেহিকেল স্কুটার তিন চাকার গাড়ি সড়ক মহাসড়ক ইজিবাইক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অটোটেম্পো যান্ত্রিক যানবাহন দুর্ঘটনা অটোমোবাইলস
file pic

তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা ২০২৬’ আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে কার্যকর হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে বর্তমানে যারা ই-রিকশা চালাচ্ছেন, তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেয়া হবে এবং অবৈধ ই-রিকশা চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা ২০২৬ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা অটোরিকশা বা ই-রিকশা পরিচালনা করছেন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও একসঙ্গে সব ই-রিকশার নিবন্ধন দেয়া হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। বিধিমালা প্রকাশের পর এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে কেউ যাতে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত ই-রিকশা যেভাবে চলাচল করছে, সেভাবেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সময় নিয়ে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এসব যানবাহন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা অপসারণের ব্যবস্থাও নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে চালকদের কিছুটা সময় দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ধীরে ধীরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা হবে।

ই-রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে যেসব ই-রিকশা চলাচল করছে, সেগুলো বুয়েট অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হলে নিবন্ধন দেয়া হবে। নিবন্ধনের ফি পরিশোধ করতে হবে ই-রিকশার মালিককে।

ঢাকা মহানগরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি জোনের জন্য নির্ধারিত থাকবে আলাদা রং। অর্থাৎ আটটি জোনের ই-রিকশা আট রঙের হবে। এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।

চালকদের ক্ষেত্রে আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আইডি কার্ড দেয়া হবে। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে নেয়ার পর ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে সবাই লাইসেন্স করতে গেলে তা সামাল দেয়া কঠিন হবে। তাই ধাপে ধাপে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে।

ই-রিকশার চার্জিং ব্যবস্থাও বিধিমালার আওতায় আনা হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের জন্য নিবন্ধন নিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণের বিষয়েও পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ই-রিকশার মালিক, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। ভাড়া যৌক্তিক রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় এ বিধিমালা কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর অন্যান্য শহরের জন্যও পর্যায়ক্রমে বিধিমালা জারি করা হবে।

ব্রিফিংয়ে ই-রিকশার মালিকানার বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের সাতশ ই-রিকশা থাকার কথা বলা হয়েছে। তিনিও আতঙ্কিত হবেন না। চাইলে বৈধভাবে পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। বাকি ই-রিকশাগুলোর নিবন্ধন অন্যদের নামে নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাই চালক ও মালিকদের আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD