ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৩-২৪ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সব পদে আওয়ামী লীগপন্থি সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ আবু এ ফলাফল ঘোষণা করেন। তবে ফল ঘোষণার আগে রাতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের দুগ্রুপের সংঘর্ষ হলে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে। এদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের ১ম দিনেই ভোট বর্জন করেন বিএনপিপন্থী নীল প্যানেলের আইনজীবীরা।
এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এ ভোট গণনা শুরু হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মানবজমিনকে বলেন, সাদা প্যানেলের সব প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন- সভাপতি পদে মিজানুর রহমান মামুন, সাধারণ সম্পাদক পদে খন্দকার গোলাম কিবরিয়া জুবায়ের নির্বাচিত হয়েছেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রুমানা জামান রীতু, সহ-সভাপতি পদে প্রাণ নাথ, ট্রেজারার পদে বিবি ফাতেমা মুন্নী, ফাহিম শরীফ সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়াও মো. মাহবুব হোসেন জয় সহ-সাধারণ সম্পাদক, মো. রেজাউল হক রিপন লাইব্রেরি সম্পাদক, শিখা ইসলাম সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মো. গোলাম কিবরিয়া সুমন দপ্তর সম্পাদক, এস এম মিজানুর রহমান ক্রীড়া সম্পাদক ও মো. আবুল হাসনাত জিহাদ সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন- মো. কামাল হোসেন, গাজী ইমরুল, আসলাম হোসেন, ইয়াসিন জাহান ভূঁইয়া (নিশান), মো. তানজির হোসেন রবিন, অ্যাডভোকেট শারমিন সুলতানা টুম্পা, ইসমত আরা শারমিন (রীমু), মো. আশিকুল ইসলাম মুরাদ, সঞ্জয় কুমার কর্মকার, জহির উদ্দিন জহির এবং নাছির উদ্দীন।
দুদিনব্যাপী এ ভোট গত বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় শুরু হয়। ১৯ হাজার ৬১৮ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দিন ভোট দিয়েছেন ৫ হাজার ২৮ জন আইনজীবী। তবে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ১০০৫ ভোট বেশি কাস্টিং দেখানোর অভিযোগ করে প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শেষে রাত ১০টার দিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন নীল প্যানেলের মনোনীত সভাপতি প্রার্থী খোরশেদ মিয়া আলম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এসময় তারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেন।
ভোট বর্জন করে অন্যান্য ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান। নীল দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আমাদের সভাপতি -সাধারণ সম্পাদকদের পোলিং এজেন্টগণ তাদের হিসেবে ৪০২৩ ভোট কাস্টিং হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনকে জানান। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ১০০৫ ভোট বেশি কাস্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে। আমরা ভোট কাস্টিং এর মোড়ি দেখতে চাই। কিন্তু তিনি দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল্লাহ আবুর অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তিনি এর আগের নির্বাচনেও ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেননি। এবারের নির্বাচনে যাতে তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার না করা হয়, সে ব্যাপারে আমরা বার কাউন্সিলে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেয়নি। তারা আরো বলেন, প্রথম দিনে ১৪টি কাউন্টারে ভোট গ্রহণ হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের হিসেবে চার হাজার ২৩ ভোট কাস্টিং হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার পাঁচ হাজার ২৮ ভোট কাস্টিং হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। আমরা নির্বাচন কমিশনারকে জানাই চার হাজার ২৩ ভোট কাস্টিং হয়েছে। আমরা ব্যালটের মুড়ি দেখাতে বলি। তিনি আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে ফের পাঁচ হাজার ২৮ ভোট কাস্টিং হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। এসব কারণে আমরা ভোট বর্জন করেছি। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভোটে কোনো কারচুপি হয়নি। তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্ত নেই।
এবারের আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির ২৩টি পদের বিপরীতে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের ২৩ জন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।