বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন




পাঁচ মাসেও সাড়া ফেলতে পারেনি ‘বিনিময় অ্যাপ’

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩ ৭:৪৬ pm
binimoy app বিনিময় অ্যাপ Binimoy App ‘বিনিময় অ্যাপ’ বিনিময় অ্যাপ বিনিময়
file pic

ব্যাংক থেকে মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক টাকা স্থানান্তরের সুযোগ চালু হয়েছে গত বছর ১৩ নভেম্বর। দেশে প্রথমবারের মতো ইন্টার অপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম (আইডিটিপি) ‘বিনিময় অ্যাপ’ চালু হলেও গ্রাহকপর্যায়ে এ মাধ্যমে লেনদেন সাড়া ফেলতে পারেনি গত পাঁচ মাসেও। শুধু কি তাই? এখন পর্যন্ত দেশে সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকেও আনা যায়নি বিনিময় সেবায়।

অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (আইডিয়া) প্রকল্পের আওতায় চালু হওয়া এই অ্যাপটির বিষয়ে এখনো সাধারণ মানুষের ধারণা কম। আবার এ নিয়ে ব্যাপকহারে প্রচার-প্রচারণাও হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ মানুষ এখনো এ সেবাটি সম্পর্কে জানতে পারছে না। ভারতের ইউনাইটেড পেমেন্ট ইন্টারফেসের (ইউপিআই) আদলে দেশে বিনিময় চালু হয়। যদিও খাত সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, সব প্রতিষ্ঠান এ সেবায় যুক্ত হলে এবং পুরোপুরিভাবে চালু হলে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এমনকি এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহের হারও বাড়তে পারে দুই থেকে তিনগুণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সেবাটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিনিময়ে অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন প্রত্যাশিতহারে না বাড়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে অ্যাপটির সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কাজ চলছে, এটি শেষ হবে আগামী জুন নাগাদ। এরপর এতে সব প্রতিষ্ঠান যুক্ত হবে। আশা করছি, তখন এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে লেনদেন বাড়বে।

জানা গেছে, আপাতত বিকাশ ও রকেটের পাশাপাশি কিছু ব্যাংক এ সেবায় যুক্ত হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে, সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক। এ ছাড়া পিএসপি হিসেবে যুক্ত হয়েছে প্রগতি সিস্টেমের টালিপে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ‘বিনিময় অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা স্বাচ্ছন্দ্যে লেনদেন করতে পারছেন। দিন দিন এটির ব্যবহারও বাড়ছে। তবে এখন সব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার জন্য সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের কাজ চলছে। আগামী জুনে এটি ব্যাপকভাবে চালু হবে বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বরে বিনিময়ের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার বার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। জানুয়ারিতে এসে তা কিছুটা কমে গেছে। ওই সময় মোট ১২ হাজার ৪০৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ২ কোটি ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে লেনদেনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও টাকার অঙ্কে পরিমাণ বেড়েছে। এ সময় ১২ হাজার ৬০৩টি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৮১ লাখ ১৩ হাজার ৫০ টাকা লেনদেন হয়েছে। মার্চে তা আরও কিছুটা বেড়েছে। এ সময় ১২ হাজার ৯০৯টি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ১২ লাখ ৬১ হাজার ৩৪৬ টাকা লেনদেন হয়েছে। আর চলতি এপ্রিল মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৮৮টি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ১০৮ টাকা।

বিনিময়ের পদ্ধতি অনুযায়ী, বিকাশ থেকে রকেটে অর্থাৎ এক এমএফএস প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য এমএফএসে টাকা স্থানান্তরে গ্রাহকের প্রতি হাজারে খরচ হচ্ছে ৫ টাকা। আর এমএফএস প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠালে প্রতি হাজারে খরচ ১০ টাকা। এমএফএস থেকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) হিসাবে টাকা পাঠালে প্রতি হাজারে খরচ ৫ টাকা। বিনিময় সেবা ব্যবহার করে যে কোনো অঙ্কের লেনদেনে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান আইডিটিপিকে ৫০ পয়সা দেবে। আর বিনিময়ের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে পাঠাতে খরচ সর্বোচ্চ ১০ টাকা। ব্যাংক থেকে পিএসপি ও এমএফএসে টাকা পাঠাতে কোনো খরচ নেই। তবে যেই পিএসপি ও ব্যাংকে টাকা যাবে, তাদের ০.৪৫ শতাংশ হারে মাশুল দিতে হবে। আর এই মাশুল পাবে যে প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা যাবে, সেই প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিনিময় ব্যবহার করতে চাইলে গ্রাহককে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর গ্রাহকের নামে @binimoy.gov.bd যুক্ত হয়ে একটি আইডি তৈরি হবে। নিবন্ধন শেষ হলে গ্রাহক দুটি অপশন দেখতে পাবেন ‘সেন্ড মানি’ ও ‘রিসিভ মানি’। গ্রাহক যদি কাউকে টাকা পাঠাতে চান, তখন সেন্ড মানি অপশনে গেলে নিজের যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট আছে, তা থেকে একটি বেছে নিতে হবে। এবার যাকে পাঠাবেন তার মোবাইল ফোন নম্বর বা এরই মধ্যে যদি ওই ব্যক্তির বিনিময়ে আইডি থাকে, সে আইডি নম্বর দিয়ে টাকা পাঠানো যাবে। আর যাকে টাকা পাঠানো হলো, তিনি ‘রিসিভ মানি’ অপশনে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নম্বরে টাকাটা গ্রহণ করতে পারবেন।

আরো পড়ুন: বিনিময় অ্যাপ দিয়ে বিকাশ ও রকেটে লেনদেন যেভাবে 

বিনিময় যেভাবে কাজ করে

বিনিময় ওয়েব বেজড একটি প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মে বিনিময় একটি সেবা হিসেবে ব্যাংক, এমএফএ’র অ্যাপে যুক্ত হবে। এটি ব্যবহার করতে চাইলে গ্রাহককে প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে গ্রাহকের নামের পরে binimoy.gov.bd যুক্ত হয়ে একটি আইডি তৈরি হবে। এরপরে গ্রাহক দুটি অপশন দেখতে পারবেন সেন্ড মানি ও রিসিভ মানি।

কাউকে টাকা পাঠাতে চাইলে সেন্ড মানি অপশনে গিয়ে নিজের যেসব এমএফএস অ্যাকাউন্ট (বিকাশ, রকেট) অ্যাকাউন্ট আছে, তা থেকে একটি বেছে নিতে হবে। যাকে টাকা পাঠানো হবে তার মোবাইল নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যদি বিনিময় আইডি থাকে, তাহলে সেই নম্বর দিয়ে টাকা পাঠানো যাবে। যাকে পাঠানো হয়েছে তিনি রিসিভ মানি অপশনে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা যেকোনও এমএফএস আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নম্বরে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ থেকে রকেটে টাকা পাঠাতে (প্রতি হাজারে) খরচ হবে ৫ টাকা। আর এমএফএস সেবা (বিকাশ, রকেট ইত্যাদি) থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠাতে (প্রতি হাজারে) খরচ হবে ১০ টাকা। অপরদিকে এমএফএস থেকে পেমেন্টে সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে খরচ হবে হাজারে ৫ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জারি করেছে। এতে আরও জানানো হয়েছে- ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল ট্র্যানজেকশন প্ল্যাটফর্ম-আইডিটিপি রবিবার (১৩ নভেম্বর) চালু হবে এবং সোমবার (১৪ নভেম্বর) থেকে লেনদেন করা যাবে। কোন সেবা পেতে কত খরচ হবে, তা প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD