মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন




ভাঙনে বিলীনের পথে চিলমারীর খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ জুন, ২০২৩ ১০:৫৮ am
Coastal erosion loss displacement land long-term removal sediment rocks coastline waves currents tides wind-driven water waterborne ice storms উপকূল ভাঙন উপকূলীয় ভাঙন Upakul bank coast shore littoral সমুদ্র নদী কূল নিকটবর্তী স্থান বেলাভূমি তটভূমি সমুদ্র উপকূল উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাবে Upakul bank coast shore littoral সমুদ্র নদী কূল নিকটবর্তী স্থান বেলাভূমি তটভূমি সমুদ্র উপকূল উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাবে
file pic

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীনের পথে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাকা ভবন। এরই মধ্যে ভবনের একাংশ ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। চার বছর আগে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল ভবনটি।

রোববার (১৮ জুন) ভোরে ভবনের একাংশ ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ধসে পড়ে। অব্যাহত ভাঙনে পুরো ভবনটি নদের গর্ভে চলে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই বছর ধরে ভাঙনের কবলে থাকা ভবনটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেও কোনো লাভ হয়নি। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বছরের শুরুতে বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তর করেছে বলে জানা গেছে। তারা জানায় সদ্য ভাঙনের কবলে পড়া ভবনটি পরিত্যক্ত ছিল। নদের ভাঙনের কথা চিন্তা করে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নতুন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চারতলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করে। প্রায় ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২২ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিদ্যালয়টির একাংশ বিলীন হয়। তখন পাকা ভবনটি রক্ষায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। তবে ভাঙনের ভয়াবহতায় বিদ্যালয়টি ভাঙনকবলিত স্থান থেকে দূরবর্তী স্থানে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শুরু থেকে সেখানে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। ফলে পাকা ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভাঙনের তীব্রতায় আগের স্থান থেকে সরিয়ে নতুন স্থানে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। পাকা ভবনটিতে কিছু আসবাবপত্র রাখা ছিল। গত বছর ভাঙনের পর নদী অনেকটা দূরে সরে যাওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম, ভবনটি হয়তো রক্ষা হবে। কিন্তু দুই দিন থেকে পানি বেড়ে যাওয়ায় আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। রোববার ভোরে ভবনটির একাংশ নদে ধসে পড়ে। বাকিটাও হয়তো চলে যাবে।

কলেজের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম মণ্ডল জানান, এই প্রতিষ্ঠানটি নয়ারহাট ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবনটি পাওয়ার পর আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। এখন নতুন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। নতুন ভবন পেলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সুবিধা হবে।

নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান জানান, পাকা ভবনটি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ধসে পড়েছে। এর দরজা-জানালা ও অন্যান্য আসবাবপত্র নতুন স্থানে নেওয়া হয়েছে। ভাঙনে নয়ারহাট বাজারের বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান চেয়ারম্যান।

নয়ারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, প্রতি বছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন হয়। কিন্তু যে সময় ভাঙন রোধে কাজ করার দরকার সেই সময় কোনো কাজ হয় না। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে কয়েকশ হেক্টর আবাদি জমিসহ শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ায় এই চরাঞ্চলের অভাবী মানুষের সন্তানদের পড়ালেখা ব্যাহত হবে।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, স্কুল অ‌্যান্ড কলেজটি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিভিন্ন সময় জানানো হয়েছিল। ভবনটি বিলিন হলেও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য আমরা পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে স্কুল অ‌্যান্ড কলেজের কার্যক্রম শুরু করেছি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD