পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ধনী দেশগুলো চীনের উন্নয়ন সহ্য করতে পারে না। ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশও বিদেশিদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ হয়েছে বাংলাদেশ। তারা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনীতিতে টানাটানি করছে। সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শুক্রবার সকালে এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল ও কিছু প্রবাসী মিলে বিদেশিদের কাছে প্রতিনিয়ত নালিশ করে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানদের সফরকে বাংলাদেশের জন্য সুখবর উল্লেখ করে তিনি প্রত্যাশা করেন, এ সফরে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ভুল ভাঙবে। আরও বাড়তে পারে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা।
নিজের নির্বাচনি এলাকা সিলেটে শুক্রবার সকালে দুদিনের সফরে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। সিলেট পৌঁছে অংশ নেন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন সুন্দর হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে চান, দেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের সেবা করতে চায়। আওয়ামী লীগ আছে বলেই উন্নয়ন হয়েছে। এ স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে বারবার আওয়ামী লীগ সরকার দরকার।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানদের বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন করেলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, আপনারা কংগ্রেসম্যান নিয়ে এত চিন্তায় কেন? আমেরিকাতে ৪৩৫ কংগ্রেসম্যান আছেন-তারা সারা দুনিয়া বেড়াবেন এটাই স্বাভাবিক। তারা বাংলাদেশেও আসবেন। তারা এলে তো ভালো। এসে আমাদের দেশে দেখে যাক। তাদের তো ধারণা, সাইক্লোনপিষ্ট গরিব দেশ। কিন্তু এসে দেখবে এ দেশ তো এত গরিব নয়। আমরা তাদের স্বাগত জানাই।
তিনি বলেন, আমাদের বিরোধী দল ও কিছু প্রবাসী তাদের ধারণা দিয়ে যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সময়ে নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুধর্মের লোকজন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। কিন্তু আসলে হিন্দু সম্প্রদায় আরও ১০ লাখ বেড়েছে। এছাড়া বিরোধী দলের তথ্যমতে তারা জেনেছেন, খিস্ট্রান সম্প্রদায় নাকি বাংলাদেশে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। তারা আসুক, দেখুক-তারা বিরোধী দলের কাছে যা শুনেছে তা সত্যি কিনা।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মূলত তারা আসছেন রোহিঙ্গাদের জন্য। মানবিক কারণে তারা রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেয়, যেটা বাংলাদেশ সরকারকে নয়, বিভিন্ন সংস্থাকে। সেসব সহায়তা ঠিকমতো ব্যয় হচ্ছে কিনা, কেউ চুরি করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে আসছেন তারা। যারা আসছেন তারা মূলত অর্থছাড় কমিটির সদস্য। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বাড়াতে বলেছে, তারা পর্যবেক্ষণ করে গেলে হয়তো সেই সহায়তা আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের এত আগ্রহ কেন-এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৬৭ দেশে নির্বাচন হয়েছে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দেশে নির্বাচন হবে। সেসব নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা নেই। কিন্তু শুধু বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই কথা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ আমাদের বিরোধী দল সব সময়ই বিদেশিদের কাছে নালিশ করে আসছে, তারা জনসাধারণের কাছে যেতে পারে না। তারা নালিশ পার্টি হয়ে গেছে। এছাড়া কিছু প্রবাসী আছেন তারাও বিদেশিদের কাছে ইনিয়ে-বিনিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা নালিশ করে থাকেন। কিন্তু আমরা এ সমস্যা কাটিয়ে উঠব।