শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন




যুদ্ধাপরাধ: বাগেরহাটের ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩ ১:২৩ pm
কারাদণ্ড International Crimes Tribunal ICT Bangladesh domestic war crimes tribunal আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ অপরাধ ট্রাইবুনাল আইসিটি Tribunal International Crimes Tribunal ICT Bangladesh domestic war crimes tribunal আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ অপরাধ ট্রাইবুনাল আইসিটি মৃত্যুদণ্ড প্রাণদণ্ড শাস্তিস্বরূপ হত্যা শাস্তি Tribunal SC সুপ্রিম কোর্ট রায় Supreme Court highcourt হাইকোর্ট আদালত Death Penalty মৃত্যুদণ্ড প্রাণদণ্ড মৃত্যুদণ্ড
file pic

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরামসহ সাত জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলামসহ তিন বিচারপতির ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাগেরহাটের খান আকরামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলায় সাত আসামির মধ্যে খান আকরাম হোসেন (৬০), শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন (৬২) ও মো. মকবুল মোল্লা (৭৯) কারাবন্দি।

আর পলাতক রয়েছেন, খান আশরাফ আলী (৬৫), রুস্তম আলী মোল্লা (৭০), শেখ ইদ্রিস আলী (৬১) ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল (৬৪)।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত, তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।

আসামিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। পরে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে এমনটি প্রত্যাশা করে প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সবগুলো অভিযোগ আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, আশা করি তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।

আসামিদের বিরুদ্ধে যে সাত অভিযোগ

অভিযোগ-১: ১৯৭১ সালের ২৬ মে ১৫/২০ জন রাজাকার ও ২৫/৩০ জন পাকিস্তানি সেনাসহ বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের চাপড়ী ও তেলিগাতীতে নিরীহ মানুষদের ওপর অবৈধভাবে হামলা চালায়। সেসময় তারা ৪০/৫০টি বাড়ির মালামাল লুট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে। এছড়াা, দুইজন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করে ও ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-২: ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই আসামিরা বাগেরহাটের কচুয়া থানাধীন হাজরাখালী ও বৈখালী রামনগরে হামলা চালায়। তারা নিরীহ চারজন ব্যক্তিকে আবাদের খালের ব্রিজে হত্যা করে। পরে মরদেহগুলো খালের পানিতে ভাসিয়ে দেয়।

অভিযোগ-৩: ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানাধীন ঢুলিগাতী গ্রামে আসামিরা হামলা চালিয়ে দুইজন নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৪: ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া থানাধীন বিলকুল ও বিছট গ্রামে চারজন নিরীহ বাঙালিকে আটকের পর কাঠালতলা ব্রিজে এনে নির্যাতন করে। এরপর তাদের গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়।

অভিযোগ-৫: ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া থানাধীন বিলকুল গ্রাম থেকে নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী নকীবকে আটক করে। এরপর তাকে দৈবজ্ঞহাটির গরুর হাঁটির ব্রিজের ওপরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৬: ১৯৭১ সালের ১৬ অক্টোবর বাগেরহাটের কচুয়া থানাধীন উদানখালী গ্রামে নিরীহ নিরস্ত্র উকিল উদ্দিন মাঝিকে আটক করে হত্যা করে। এছাড়া, তার মেয়ে তাসলিমাকে কচুয়া রাজাকার ক্যাম্পে ধরে নিয়ে নিয়ে আসে। কচুয়া রাজাকার ক্যাম্প ও আশপাশের রাজাকার ক্যাম্পে দীর্ঘদিন তাসলিমাসহ চারজনকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ক্যাম্প তল্লাশি করে ভুক্তভোগী তাসলিমাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।

অভিযোগ-৭: বাগেরহাটের কচুয়া থানাধীন গজালিয়া বাজারে হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ নিরস্ত্র শ্রীধাম কর্মকার ও তার স্ত্রী কমলা রানী কর্মকারকে আটক করে নির্যাতন করতে থাকে। আসামিরা শ্রীধাম কর্মকারকে হত্যা করে কমলা রানী কর্মকারকে জোরপূর্বক অপহরণ করে কচুয়া রাজাকার ক্যাম্পে এনে আটকে রাখে। উল্লিখিত আসামিসহ কচুয়া রাজাকার ক্যাম্প ও আশপাশের রাজাকার ক্যাম্পে কমলা রানী কর্মকারসহ আটক অন্য চারজনকে দীর্ঘদিন ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। প্রায় এক মাস শারীরিক নির্যাতনের পর কমলা রানী কর্মকার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD