সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন




কোটা বাতিল দাবিতে ঢাবির লাইব্রেরির সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪ ৪:৫৩ pm
বিক্ষোভ আন্দোলন demonstration সুইডেন বিক্ষোভ পোড়ানো হলো পবিত্র কোরআন ru ru Rajshahi University রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাবি Dhaka College Ideal students clash ঢাকা কলেজ আইডিয়াল শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষ Police Muslim clash in Panchgarh BGB deployed ponchogar পঞ্চগড় পুলিশ মুসল্লি সংঘর্ষ বিজিবি মোতায়েন
file pic

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত চার দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বিকেল তিনটায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্লাটফর্মে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হল ও বিভাগ থেকে মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টা শাহবাগ মোড়ে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা দুদিনের কর্মসূচি দিয়ে ওই দিনের জন্য শাহবাগ মোড় থেকে সরে যান। তাদের কর্মসূচি অনুযায়ী আজ শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রোববার সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে দুদিনের এই কর্মসূচি ঘোষণা দেন কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কারী ঢাবি শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম।

এদিকে কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সৈয়দ বায়াজিদ হোসেন বলেন, ‘এটি আমাদের নৈতিক আন্দোলন। একতরফাভাবে একপক্ষকে সুবিধা দিতেই এ কোটা প্রথা। এটা আমরা মানি না। সংবিধানে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কোটার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩টির বেশি বিভাগ ইতোমধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৭ ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি লাবিবা বিনতে ওয়ালী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্লাটফর্মের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ব্যাচের পক্ষ থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন শেষ করে ক্লাসে ফিরলেও আমাদের ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থী কোনোরকম অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবে না।

২০১৮ সালে তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে। ২০২১ সালে ওই পরিপত্রের ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল নিয়ে হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে ৫ জুন হাইকোর্ট পরিপত্রটি বাতিল করে এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়।

এরই মধ্যে ১ জুলাই থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। কোটা বাতিলের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে তিনদিন শাহবাগ অবরোধ করেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ অবরোধ করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোতে এ ইস্যুতে আন্দোলন চলছে।

শনিবার সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের বাইপাসনগর জলপাই এলাকায় অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন তারা। ফলে নাটিয়াপাড়া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া। দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD