বাংলাদেশের আকাশে দেখা গেছে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র মাহে রামাদান।
এ মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অসীম রহমত ও বরকত নিয়ে এসেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বসূরিদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার বা মোত্তাকি হতে পার। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
এ মাসের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো রোজা রাখা। শরিয়তের ভাষায় রোজা বলা হয়, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার, যৌনকর্ম এবং আল্লাহ ও তার রসুলের নিষিদ্ধ যাবতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা। এ মাসে মুমিন বান্দার জন্য বিশেষ পুরস্কার হলো ইবাদতের সহজতার জন্য আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে পুরো মাস বন্দি করে রাখেন।
মুসলমানদের কাছে রমজান পবিত্র মাস। এই একমাস সংযম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন ধর্মপান মুসলমানরা।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সৌদি আরবে আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাতেও আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামীকাল রোববার থেকে এসব দেশে পবিত্র রোজা শুরু হবে।
রমজান হলো হিজরি সনের নবমতম মাস। হিজরি সনে বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে। রমজানে রোজা রাখা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং এটি সকল সুস্থ মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে ছোট শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, ভ্রমণকারী, গর্ভবতী, দুধপান করানো বা ঋতুমতী নারীদের রোজা না রাখার ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে।
রাসূল (সা.) বলেছেন, মাহে রমজান এলে এর প্রথম রাত থেকে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলিত করে রাখা হয়। জাহান্নামের সব কয়টি দরজা রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় পবিত্র জান্নাতের সব কয়টি দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, হে কল্যাণকামী অনুসন্ধানী! তুমি অনুসন্ধান কর ও এগিয়ে চল। আর অকল্যাণকামী পাপাত্মাদের বলতে থাকেন, তুমি থাম। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।