মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন




দারিদ্র্য হ্রাসে মালয়েশিয়ার বিস্ময়কর সাফল্য: বিশ্বব্যাংক

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০৮ pm
মালয়েশিয়া petronas twin towers kuala lumpur malaysia মালয়েশিয়া
file pic

৬৮তম স্বাধীনতা উদযাপনের দুইদিন আগে দারিদ্র্য হ্রাসে মালয়েশিয়ার বিস্ময়কর সাফল্যের কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার প্রায় ১০ বছর পর দেশটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা দরিদ্র বলে বিবেচিত হত।

দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামাসহ মেইনস্ট্রিমের প্রায় সবকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের মালয়েশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. অপূর্ব সাংহি মালয়েশিয়ার অর্থনীতির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন তুলে ধরেছেন, যা তিনি আনসাং উইন্স অর্থাৎ ‘অসাধারণ বিজয়’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, দেশটির জনগণের গর্ব করা উচিত।

গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রথম অর্জনটি হলো, স্বাধীনতার পর থেকে দারিদ্র্যের উল্লেখযোগ্য হ্রাস। মালায়ার স্বাধীনতার প্রায় ১০ বছর পর দেশটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা দরিদ্র বলে বিবেচিত হত। যা আজ প্রতি ১০০ জন মালয়েশিয়ানের মধ্যে মাত্র প্রায় ৬ জন দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। এর মানে হলো ১৪ মিলিয়নেরও বেশি মালয়েশিয়ান দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।

গণমাধ্যমগুলো বিশ্বব্যাংকের মালয়েশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. অপূর্ব সাংহির এক্স প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো জানিয়েছে, “যদিও দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার প্রচেষ্টা এখনও চলছে, এই অর্জনটি খুবই অসাধারণ।” এছাড়া এই সাফল্য এসেছে কোনো স্থায়ী বস্তি গড়ে না উঠেই—যা প্রায়শই অন্যান্য দেশে দেখা যায়। উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় এই দিকটি প্রায়শই উপেক্ষিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি আরো বলেছেন, “এই অর্জনটি অসাধারণ, বিশেষ করে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে।”

দেশটির প্রধানসারির গণমাধ্যমগুলো বিশ্বব্যাংকের অপূর্ব সাংহি কর্তৃক তুলে ধরা দেশটির দ্বিতীয় অর্জনের বিষয়ে লিখেছে, মালয়েশিয়ার অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সাফল্য। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া যখন স্বাধীনতা লাভ করে, তখন একই আয়ের স্তরে থাকা অন্যান্য পণ্য-নির্ভর দেশগুলোর তুলনায় মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক জটিলতার স্তর ছিল অনেক বেশি। ১৯৬০ এর দশকের প্রথম দিকে, মালয়েশিয়ার ৯৫ শতাংশ রপ্তানি ছিল মৌলিক পণ্য বা ‘সাধারণ’ পণ্য। এখন, সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করে বলেছেন যে, মালয়েশিয়ার মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখন ফিলিপাইনের তুলনায় ৩.৬ গুণ এবং জাম্বিয়ার তুলনায় ৯ গুণ বেশি। সে সময় এই দুটি দেশ মালয়েশিয়ার মতোই একই স্তরের উন্নয়ন নিয়ে শুরু করেছিল। অর্থনৈতিক এই বহুমুখীকরণ জনগণের জীবনমানকে সরাসরি উন্নত করেছে।”

দেশটির তৃতীয় অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া নীরবে বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত। মালয়েশিয়ার হালাল সনদ ও মান এখন অন্যান্য দেশের জন্য বৈশ্বিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ার সনদ ও মান এখন বৈশ্বিক রেফারেন্স হিসেবে স্বীকৃত উল্লেখ করে আরেকটি সফলতা দেখিয়ে তিনি লিখেছেন, “হালাল অর্থনীতি নিয়ে প্রতিটি মালয়েশিয়ানের গর্ব করা উচিত।”




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD