শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন




দেশের ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানায় বেতন পরিশোধ: বিজিএমইএ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ ৬:০৬ pm
Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association BGMEA বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ
file pic

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের ৯৯ শতাংশ পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা এবং ঈদ বোনাস দিয়েছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট কয়েকটি কারখানায় বেতন ও বোনাস প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত বড় কোনো সমস্যা রয়েছে।বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

দেশীয় চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, তবে এখনো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। এর সঙ্গে উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি শিল্পকে চাপে রেখেছে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও উদ্যোক্তারা ব্যক্তিগতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করেছেন। যেসব কারখানায় আর্থিক সংকট ছিল, সেখানে বিজিএমইএ, ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

এদিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম পরিশোধ করেছে। একই সঙ্গে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ কমাতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং বাকি কারখানাগুলো আজ ও আগামীকালের মধ্যে ছুটি ঘোষণা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

মাহমুদ হাসান বলেন, “মোট ১ হাজার ৭৮৩ টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে।” দুটি কারখানা বেতন পরিশোধ করতে পারেনি তুলে ধরে তিনি বলেন,” একটির রপ্তানি বিল গত ১৭ মার্চ আসার কথা ছিল। কিন্তু সেটি আসেনি, ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে বিকল্পভাবে বিল জমা নিয়ে অর্থের সংস্থান করার।”

ঈদের আগেই তা সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।

আরেকটি কারখানার ৮০ জন কর্মচারী রয়েছেন। সেখানেও সমস্যা কেটে যাবে মন্তব্য করে মাহমুদ হাসান বলেন, সদস্য কারখানার ১ হাজার ৭৮১টি ঈদ বোনাস দিয়ে দিয়েছে।

চারটি কারখানা ঈদের বোনাস দিতে পারেনি

মোট কারখানার ৬৪ শতাংশ মার্চ মাসের আংশিক বেতন দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে ব্যাংক থেকে পাওয়া ও প্রণোদনার বকেয়া থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার নগদ ছাড় করায় বেতন বোনাস দেওয়া সম্ভব হয় বলে জানান মাহমুদ হাসান।

আগে ঈদের সময়ে প্রণোদনার ২ থেকে ৩ মাসের অর্থ পরিশোধ করা হলেও এবার ৫ মাসের দেওয়া হয়ে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

পোশাক খাতের ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। টিআইবি এটাকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দাবি করে গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করেছে।

এটা স্বার্থের দ্বন্দ্ব কি না, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে হাসান মাহমুদ বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার সাত দিনের মধ্যে টিআইবির মতো প্রতিষ্ঠানের বিবৃতি দেওয়া সমীচীন নয়। তাকে পারফর্ম করতে না দিয়ে, পারফর্ম করার আগেই কথা বলা সমীচীন নয়।”

গভর্নরের কাছে আইন অনুযায়ী সব কিছু করার আহ্বান জানান তিনি।

ঈদ এলেই কেন বেতন বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সরকারের কাছে ঋণ চাইতে হবে, এমন প্রশ্নে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত ৮ মাস রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের জন্য কর্মদিবস কম ছিল, এ কারণে অর্থ সংকট দেখা দেয়।”

ঋণ না পেলে দেড় শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যেত বলে উল্লেখ করেন তিনি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD