রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন




হামে ২৬ দিনে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ১৪ হাজার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫১ am
Chattogram Medical College Hospital CMC CMCH চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চমেক মেডিকেল
file pic

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৬ দিনে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৪ হাজার ৫৬১ শিশু। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ২৪১ জনের এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। নিশ্চিত হাম শনাক্তের তুলনায় উপসর্গভিত্তিক আক্রান্ত পাঁচ গুণের বেশি এবং মৃত্যু প্রায় ছয় গুণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, জ্বর বা কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে আসা অধিকাংশ রোগীকেই সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ ও আশঙ্কাজনক রোগীদেরই মূলত হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে এবং পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।

দেশে হামের সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অধীনে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে নমুনা সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক রোগী নিশ্চিত শনাক্ত না হয়ে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

ঢাকায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত, রাজশাহী দ্বিতীয়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত আক্রান্ত দুই হাজার ২৪১ শিশুর মধ্যে ৫০ শতাংশ বা এক হাজার ১৪১ জন ঢাকা বিভাগের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৪১ জন (৩৩ শতাংশ) রাজশাহী বিভাগে। বাকি ১৭ শতাংশ দেশের অন্যান্য বিভাগে। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১০ জন, বরিশালে পাঁচজন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, কোনো এলাকায় একাধিক রোগী একই উপসর্গ নিয়ে এলে সবার পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। একজনের পরীক্ষার ফল দিয়েই পরিস্থিতি বোঝা যায়। মৃত্যুর পর পরীক্ষা না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তা ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হিসেবেই থেকে যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক– একজন আক্রান্ত শিশু থেকে প্রায় ৭০ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। র‍্যাশ ওঠার আগে-পরে মিলিয়ে সাত থেকে ৯ দিন রোগী সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই প্রধান ভরসা। জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৮৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। নতুন করে ৬৪২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছে সাত শিশু। তাদের মধ্যে ছয়জনের উপসর্গ ছিল। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীতে চারজন, ঢাকায় দুজন এবং সিলেটে একজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা হামের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি। ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, টিকা না নেওয়া ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ১৯৯০ সালের পর টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসা ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কারণে বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এটি মহামারিতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।

ফরিদপুর মেডিকেলে দুই শিশুর মৃত্যু
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন গত বুধবার এবং আরেকজন বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করে। দুই শিশুর বয়সই সাত মাস।

ময়মনসিংহে মারা গেছে দুই শিশু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এ সময়ে হাসপাতালটির হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিল ৭৬ শিশু।

ওসমানী মেডিকেলে আরেক শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু (পাঁচ মাস ২১ দিন বয়স) হয়েছে। বুধবার রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে একই হাসপাতালে গত সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় দুই মাস বয়সী শিশু।

হবিগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি ১১ শিশু
হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রতিদিনই হামের লক্ষণ নিয়ে শিশু ভর্তি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১ শিশু। বুধবার রাত পর্যন্ত সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আটজনকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন চিকিৎসক।

জয়পুরহাটে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ছয় শিশু
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জন ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ মিলে মোট ৬৮ রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাম আক্রান্তদের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৪৪ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত।

কুড়িগ্রামে চার শিশু আইসোলেশনে
গত এক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশু কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চার শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। দুই শিশু বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং অপর দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD